শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬,

রোজায় কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫, ১০:১৩ পিএম

রোজায় কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট নিরসনে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় উৎস থেকে মোট ৪ কোটি ৭৫ লাখ লিটার ভোজ্যতেল এবং ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

ভোজ্যতেল কেনার বিস্তারিত: সরকার ভোজ্যতেল কিনতে মোট ৬৪২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় করবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৩ কোটি ৭৫ লাখ লিটার এবং স্থানীয়ভাবে এক কোটি লিটার তেল কেনা হবে।

নাইজেরিয়া (উৎস ব্রাজিল): সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল কেনা হবে। প্রতি লিটার তেলের খরচ পড়বে ১৫০ টাকা ৩৪ পয়সা (টিসিবি গুদাম পর্যন্ত)।যুক্তরাষ্ট্র (উৎস তানজানিয়া): ১ কোটি ২৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনা হবে। প্রতি লিটারের খরচ ধরা হয়েছে ১৬৪ টাকা ১১ পয়সা।মালয়েশিয়া: এখান থেকে ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনা হবে, যার খরচ পড়বে প্রতি লিটার ১৬৩ টাকা ৩৭ পয়সা।স্থানীয় রাইস ব্রান তেল: দেশের ৩টি প্রতিষ্ঠান (প্রধান অয়েল মিলস, গ্রিন অয়েল এবং মজুমদার প্রোডাক্টস) থেকে ১ কোটি লিটার রাইস ব্রান তেল ১৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকায় কেনা হবে।

মসুর ডাল ও বিতরণ প্রক্রিয়া: ভোজ্যতেলের পাশাপাশি ৭২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই তেল ও ডাল ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর মাঝে সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি করা হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনা এই তেল বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে কিন্তু ক্রয়মূল্যের চেয়ে সামান্য বেশি মূল্যে বিক্রি করা হবে, যাতে সরকারের কোনো বাড়তি ভর্তুকির প্রয়োজন না হয়। রমজানে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সরবরাহের এই ধারা বজায় রাখা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে সরকার।