সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কেন বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলছেন না মোদি, জানা গেল কারণ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫, ১২:৪৭ পিএম

কেন বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলছেন না মোদি, জানা গেল কারণ

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। সম্প্রতি সীমান্তে উত্তেজনা এবং হাইকমিশন এলাকায় বিক্ষোভের ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল রূপ নিয়েছে।

তবে আশ্চর্যজনকভাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ভারত সরকার মন্তব্য করলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ইদানীং বাংলাদেশ প্রসঙ্গে অনেকটা নীরব থাকতে দেখা যাচ্ছে।

এই নীরবতার নেপথ্যে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা’ রয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন সিপিআইএম-এর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) কলকাতায় এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই তথ্য জানান।

মোহাম্মদ সেলিমের বক্তব্যের মূল দাবি:

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধ: সেলিম দাবি করেন, “আগে মোদি নিয়মিত বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলতেন কিন্তু এখন বলছেন না, কেননা যুক্তরাষ্ট্র তাকে নিষেধ করেছে।”হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার শর্ত: তার মতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে মোদি সরকার পুরোপুরি ওয়াশিংটনের ‘সবুজ সংকেত’ বা সিগন্যালের অপেক্ষায় রয়েছে।মোদি সরকারের নীরবতা: হাসিনা ইস্যুতে কেন দিল্লি কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানাচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই বাম নেতা।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্কের এই স্পর্শকাতর সময়ে মোহাম্মদ সেলিমের এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের অবস্থানের মধ্যে কোনো বিশেষ সমীকরণ কাজ করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল আগে থেকেই।

তবে সিপিআইএম নেতার এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দাপ্তরিক বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য এবং কূটনৈতিক স্থিতিশীলতার লড়াইয়ে ওয়াশিংটনের প্রভাব কতটা সক্রিয়, সেলিমের এই মন্তব্য যেন সেই তর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।