রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,

পে-স্কেল নিয়ে নতুন খবর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৬:১০ পিএম

পে-স্কেল নিয়ে নতুন খবর

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত জুলাই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার বৈষম্য দূর করতে পে-কমিশন গঠন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় আন্দোলনে নামার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন কর্মচারীরা।

মূলত ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের দাবি পূরণ না হওয়ায় এবং সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর না মেলায় তারা রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এই লক্ষে আজ শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) নতুন ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা রয়েছে সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের।তদন্তে জানা গেছে যে এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর নতুন কর্মসূচি ঘোষণার পরিকল্পনা ছিল কর্মচারী নেতাদের।

কিন্তু ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সেই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল। তবে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেলের সুপারিশসহ গেজেট প্রকাশের যে আল্টিমেটাম তারা দিয়েছিলেন তা থেকে এক চুলও নড়েননি নেতারা। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে নতুন বছরের শুরু থেকেই তাদের আন্দোলন তীব্রতর হবে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রতীকী অনশন, সমাবেশ এবং দৈনিক ১-২ ঘণ্টার কর্মবিরতির মতো কর্মসূচির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আজ বিস্তারিত জানানো হবে।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ একসময় এই সরকারের মেয়াদে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিলেও পরে তিনি জানান যে এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্বাচিত সরকার নেবে। এই বক্তব্যে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কর্মচারী নেতারা বলছেন যে মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে অথচ ১০ বছর ধরে তাদের বেতন কাঠামোর কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারা অবিলম্বে বৈষম্য নিরসন করে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার দাবি তুলছেন। পে-কমিশন গঠনের পর ছয় মাস পার হতে চললেও এখনো সুপারিশ জমা না হওয়ায় তারা হতাশ।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের সভাপতি জানিয়েছেন যে তারা প্রশাসনের শৃঙ্খলা ও বিধিমালা মেনে শান্তিপূর্ণভাবেই তাদের দাবি আদায় করতে চান। তবে সরকার যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ না নেয় তবে তারা সারা দেশে একযোগে কঠোর কর্মসূচি পালন করবেন। প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়সহ দেশের সব জেলা ও উপজেলায় এই আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয় সরকার এই অসন্তোষ নিরসনে এবং কর্মচারীদের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় নতুন কোনো আশ্বাস বা বার্তা নিয়ে আসে কি না।