রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,

তারেক রহমানের দেশে ফেরা: প্রবাসীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৭:১৮ পিএম

তারেক রহমানের দেশে ফেরা: প্রবাসীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে মহাখালী থেকে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং পর্যন্ত প্রধান সড়কে সাময়িকভাবে সাধারণ যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করায় বিদেশ থেকে আসা এবং বিদেশগামী প্রবাসীরা কিছুটা বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিমানবন্দর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে গণপরিবহন না থাকায় অনেক প্রবাসী নারী ও পুরুষ তাদের ভারী ব্যাগ ও লাগেজ নিয়ে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

সৌদি আরবের আলজুবের থেকে আসা রেমিট্যান্স যোদ্ধা সালমা বেগম গাজীপুর যাওয়ার পথে পায়ে হেঁটেই বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

তিনি জানান যে দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে ব্যাগ নিয়ে হাঁটতে কষ্ট হলেও দেশের একজন বড় নেতার আগমনে এইটুকু ত্যাগ স্বীকার করতে তাঁর আপত্তি নেই। একই ধরনের মনোভাব প্রকাশ করেছেন ওমান প্রবাসী শ্রীবা দাস। তিনটি ভারী ব্যাগ নিয়ে হাঁটলেও তিনি বলেন যে তারেক রহমান দীর্ঘ ১৮ বছর পর দেশে ফিরেছেন এটাই তাঁর কাছে বড় আনন্দের বিষয়। তবে ভিন্ন চিত্রও দেখা গেছে কিছু প্রবাসীর ক্ষেত্রে। সৌদি আরব থেকে ১০ বছর পর ফেরা আমিনুল ইসলাম স্বাধীন আক্ষেপ করে বলেন যে বিদেশের উন্নত দেশগুলোতে রাষ্ট্রীয় বড় কোনো অতিথির যাতায়াতে সাধারণ মানুষের এমন ভোগান্তি হয় না। তবে তিনি প্রত্যাশা করেন যে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের পর যদি সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত হয় তবে আজকের এই কষ্ট সার্থক হবে।

প্রবাসীদের এই যাতায়াত বিড়ম্বনা লাঘবে ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের পক্ষ থেকে একটি হেল্প ডেস্ক বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে মাঠ পর্যায়ে দেখা যায় যে হেল্প ডেস্কটির ব্যানার থাকলেও সেখানে কোনো স্থায়ী ছাউনি বা স্বেচ্ছাসেবক ছিল না। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত যুবদল নেতা আলমগীর হোসেন জানান যে তারা প্রবাসীদের সহযোগিতার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিলেও নিরাপত্তার অজুহাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলার রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সরিয়ে দিয়েছে। ফলে মোটরসাইকেল ও জনবল থাকা সত্ত্বেও তারা প্রবাসীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারেননি বলে দাবি করেন।

ইরাক প্রবাসী জাহিদুল ইসলাম প্রায় ২৪ ঘণ্টা ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন যে উৎসবের আমেজ বজায় রেখেও সাধারণ মানুষের জন্য বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা রাখা যেত। তবুও বেশিরভাগ প্রবাসীর কণ্ঠেই ছিল আশার বাণী। তারা চান দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসুক এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নতুন নেতৃত্ব কাজ করুক। বিমানবন্দর এলাকায় যানচলাচল সাময়িক বন্ধ থাকলেও বিকেল নাগাদ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে প্রবাসীদের এই হেঁটে চলার দৃশ্য এবং যাতায়াতের লড়াই দিনভর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।