মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আদালত অবমাননার অভিযোগ ইসিকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নোটিশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম

আদালত অবমাননার অভিযোগ ইসিকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নোটিশ

উচ্চ আদালতের রায় অবমাননার অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। বৃহস্পতিবার দলটির সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয় যে প্রায় চার মাস আগে উচ্চ আদালত রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিবন্ধন দেওয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশ দিলেও নির্বাচন কমিশন তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে।

দলটির নেতাদের মতে কমিশন আদালতের রায়ের বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে তাদের রাজনীতি ও আগামী নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে রায়ের ব্যাখ্যা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক দূর করতে তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে আইনি মতামত নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সেই গঠনমূলক প্রস্তাবটিও আমলে নেয়নি। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা মনে করেন দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সংস্কার যাত্রা নিরঙ্কুশ করতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। সেই বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করে গত চার মাস ধরে তারা কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। তবে কমিশনের এমন অসহযোগিতামূলক আচরণ তাদের আইনি পথে হাঁটতে বাধ্য করেছে।

নেতারা আক্ষেপ করে বলেন যে গণঅভ্যুত্থানের ১৫ মাস পার হলেও নির্বাচন কমিশনের কোনো মৌলিক সংস্কার হয়নি। বর্তমান কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। তাদের দাবি সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এই কমিশন সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য হাসিল করার চেষ্টা করছে। কমিশন মূলত নির্বাচন ও সংস্কার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

আদালত অবমাননার এই নোটিশ পাঠানোর পর কমিশন যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয় তবে মামলা করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের সার্বিক সংস্কার সম্পন্ন করার দাবিতে উচ্চ আদালতে রিট করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে দলটি। প্রয়োজনে দেশের সংস্কারপন্থী নাগরিকদের নিয়ে রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়। নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হয় সেটিই দলটির মূল দাবি।