রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিনের ইন্তেকাল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিনের ইন্তেকাল

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশের সাবেক মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এম হাফিজ উদ্দিন খান ইন্তেকাল করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। 

প্রবীণ এই ব্যক্তিত্ব মৃত্যুকালে স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন নিকট আত্মীয় তরিকুল ইসলাম। তার প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এম হাফিজ উদ্দিন খানের জন্ম ১৯৩৯ সালে সিরাজগঞ্জ জেলায়। মেধাবী এই ব্যক্তিত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে (পিসিএস) যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন।

 তিনি ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০১ সালে বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি অর্থ ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এসব দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ব্যাংকিং খাতেও বিশেষ অবদান রেখেছেন। তিনি বেসিক ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের পরিচালক এবং অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেছেন।রাষ্ট্রীয় সেবার পাশাপাশি এম হাফিজ উদ্দিন খান বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। 

তিনি নাগরিক সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজন-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি-এর বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান হিসেবেও সেবা দিয়েছেন। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন এবং স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যবস্থার দাবিতে তিনি আজীবন সোচ্চার ছিলেন। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।