জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শনিবার দুপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল ও ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সাথে এক বিশেষ সমন্বয় সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
ইসি সানাউল্লাহ স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেন যে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো প্রকার অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় ইসি সানাউল্লাহ আরও জানান যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারা দেশের মতো ঝালকাঠি জেলাতেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন একটি স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনে মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ভোটাররা যাতে ভয়ভীতিহীন পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেটি নিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রাথমিক দায়িত্ব। কোনো বিশেষ পক্ষ বা প্রার্থীর হয়ে কাজ করার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই এবং এমনটি ঘটলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।সমন্বয় সভায় উপস্থিত জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. মমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন। ইসি সানাউল্লাহ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন যে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।
বিশেষ করে স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন তিনি। ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমকে আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন যেকোনো নির্বাচনি অপরাধের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম এবং সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার ইয়াসির আরাফাতসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে ঝালকাঠির প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে নিয়মিত টহল জোরদার করা হবে এবং নির্বাচনের দিন পর্যন্ত এই কড়াকড়ি বজায় থাকবে। ইসি সানাউল্লাহর এই কঠোর অবস্থান সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করেছে এবং একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশা বাড়িয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন