রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ভারতের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ১০:০৫ এএম

ভারতের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে সাথে নিয়ে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক চার দেশীয় ফোরাম গঠনের আগ্রহ এক নতুন কূটনৈতিক বার্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা ফোরাম গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তান এমন এক সময়ে এই প্রস্তাবটি সামনে এনেছে যখন বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। 

এর আগে গত বছর চীনও পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় জোটের প্রস্তাব দিয়েছিল কিন্তু তখন ঢাকার পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে যে নির্বাচনের এই শেষ সময়ে চার দেশীয় জোট নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা নেই। সরকারের উচ্চপর্যায়ে এ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তবে যেহেতু প্রস্তাবটি এসেছে তাই পরবর্তী নির্বাচিত সরকার চাইলে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারে।

 কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন নির্বাচনের ঠিক আগে এমন প্রস্তাবের মাধ্যমে পাকিস্তান আসলে ভারতকে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ যদি পাকিস্তানের এই প্রস্তাবে সাড়া দেয় তবে তা ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার চলমান শীতল সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।নথিপত্র অনুযায়ী গত ২৪ জানুয়ারি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে টেলিফোন করেন। ফোনালাপে তিনি বাংলাদেশ, চীন, মিয়ানমার ও পাকিস্তানকে নিয়ে একটি বিশেষ আঞ্চলিক বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন। 

ইসহাক দার নির্বাচনের আগেই এই বৈঠকটি করতে চাইলেও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানুয়ারির শেষ বা ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পর্যন্ত বিষয়টি স্থগিত রাখার পরামর্শ দেন। মূলত ভারতের অনুপস্থিতিতে এই অঞ্চলে একটি নতুন শক্তির বলয় তৈরি করাই এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।চীনের ত্রিদেশীয় উদ্যোগটিই এখন মিয়ানমারকে যুক্ত করে চার দেশীয় রূপ পেয়েছে। গত বছর কুয়ালালামপুর ও কুনমিংয়ে এ নিয়ে আলোচনা হলেও বাংলাদেশ তখন আপত্তি জানিয়েছিল। ঢাকার যুক্তি ছিল শ্রীলঙ্কা বা নেপালের মতো দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত না করলে এই জোট দক্ষিণ এশিয়ায় সফল হবে না। 

এখন মিয়ানমারকে যুক্ত করায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন যে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকটসহ নানা অমীমাংসিত ইস্যু রয়েছে। এমন অবস্থায় তাদের নিয়ে জোটে যাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে।আগস্ট পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্ক উন্নয়নের একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানকেনা এবং সরাসরি সমুদ্রপথে বাণিজ্য শুরুর বিষয়টি দিল্লির উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে সার্ক অকার্যকর হয়ে পড়ায় পাকিস্তান একটি বিকল্প প্ল্যাটফর্ম খুঁজছে যেখানে চীনের প্রভাব থাকবে। অন্যদিকে চীন চাইছে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে এই অঞ্চলে নিজের আধিপত্য বাড়াতে। সব মিলিয়ে এই চার দেশীয় জোটের প্রস্তাবটি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের আভাস দিচ্ছে।