রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নেকাবধারী নারীদের মুখ দেখাতে হবে ভোটকেন্দ্রে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ১০:০৭ এএম

নেকাবধারী নারীদের মুখ দেখাতে হবে ভোটকেন্দ্রে

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এবার ভোটকেন্দ্রে পরিচয় নিশ্চিত করার স্বার্থে নারী ভোটারদের জন্য মুখ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষ করে নেকাবধারী বা পর্দানশিন নারীদের ক্ষেত্রে পরিচয় শনাক্ত না করে ব্যালট পেপার ইস্যু না করার নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। তবে ধর্মীয় অনুভূতির কথা মাথায় রেখে এবং পর্দার বিধান রক্ষা করতে প্রতিটি কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে যে ভোট জালিয়াতি এবং ভুয়া ভোটার ঠেকাতে ছবিসহ ভোটার তালিকার সঙ্গে ভোটারের চেহারা মিলিয়ে দেখা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। যেহেতু এবার ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে তাই ইভিএমের মতো আঙুলের ছাপ দিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার সুযোগ নেই। 

এই কারণে চেহারার মিল দেখাই পরিচয় শনাক্তের একমাত্র প্রধান উপায় হিসেবে গণ্য হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার স্পষ্ট করেছেন যে কেউ যদি পরিচয় নিশ্চিতে মুখ দেখাতে অস্বীকৃতি জানান তবে তাকে ব্যালট পেপার দেওয়া সম্ভব হবে না।

পর্দানশিন নারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ধর্মীয় বিধানের প্রতি সম্মান জানিয়ে ইসি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নারী পোলিং অফিসার ও নারী আনসার সদস্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদি কোনো নারী ভোটার পুরুষ কর্মকর্তার সামনে মুখ খুলতে দ্বিধাবোধ করেন তবে নারী পোলিং অফিসারের মাধ্যমে একটি ঘেরা টোপে বা আড়ালে তার পরিচয় যাচাই করা হবে। এতে করে নারীর মর্যাদাও ক্ষুণ্ন হবে না এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাও বজায় থাকবে বলে মনে করছে কমিশন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ অনুযায়ী ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করা প্রিজাইডিং বা পোলিং অফিসারের আইনি দায়িত্ব। তবে একই সঙ্গে ভোটারের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো কেন্দ্রে নারী কর্মকর্তা না থাকেন এবং কোনো নারী তার পর্দা রক্ষার স্বার্থে মুখ দেখাতে না চান তবে তাকে জোর করার কোনো সুযোগ আইনে নেই। এমন পরিস্থিতিতে ওই নারী চাইলে ভোট না দিয়েই কেন্দ্র ত্যাগ করতে পারবেন এবং এর জন্য তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

ইসলামী চিন্তাবিদদের পক্ষ থেকেও এই প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। আলেমদের মতে রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে এবং নিজের পরিচয় নিশ্চিত করার স্বার্থে নারীদের মুখ দেখানো ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী জায়েজ। তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে যেহেতু বিকল্প ব্যবস্থা করার সুযোগ রয়েছে তাই নারী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই হবে সর্বোত্তম পন্থা। এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন নির্বাচনী কারচুপি রোধ করা সম্ভব হবে অন্যদিকে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণও নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।