ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর এক ভিন্ন মাত্রায় উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। শনিবার একুশের প্রথম প্রহর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অভিমুখে মানুষের ঢল নেমেছে। হাতে ফুলের ডালা আর খালি পায়ে সারিবদ্ধভাবে ৫২-র ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন সর্বস্তরের নাগরিক।
এবারের আয়োজনে মানুষের অংশগ্রহণ যেমন স্বতঃস্ফূর্ত ছিল, তেমনি পুরো এলাকা জুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নির্বাচিত সরকারের অধীনে এটিই প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন।
দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবর্গ এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রাত থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে শৃঙ্খলার সাথে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকায় কয়েক স্তরের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি র্যাব ও আনসারের বিশেষ দল মোতায়েন রয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
শহীদ মিনার সংলগ্ন রাস্তাগুলোতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই শ্রদ্ধা জানাতে পারেন, সেজন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও কাজ করে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এক শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের মধ্য দিয়ে জাতি আজ তার বীর সন্তানদের স্মরণ করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন