ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সারা দেশে দায়ের হওয়া মামলাগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সুবিধাবাদী গোষ্ঠী নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়াচ্ছে।
কোনো সাধারণ মানুষ যাতে আইনি জটিলতায় অহেতুক ভোগান্তির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বিভাগকে এসব মামলা গুরুত্বের সাথে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় দেশের অন্যতম আলোচিত বিডিআর হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, এই ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুনরায় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিশন গঠন করা হবে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। এটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি এবং তারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।
এছাড়া বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ইস্যু করা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সগুলো পুনরায় যাচাই করার ঘোষণা দেন তিনি। মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, যারা রাজনৈতিক প্রভাবে বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে লাইসেন্স পেয়েছে, তাদের অস্ত্র ও লাইসেন্স উভয়ই বাতিল করা হবে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে কিনা তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখবে মন্ত্রণালয়।জনসাধারণের পাসপোর্ট সেবা প্রাপ্তিতে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও ভোগান্তি নিরসনে নতুন উদ্যোগের কথা জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, অনেকেই অনলাইনে আবেদন করতে দক্ষ না হওয়ায় দালের শরণাপন্ন হন এবং প্রতারণার শিকার হন। এই সমস্যা দূর করতে রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখকদের মতো পাসপোর্ট অফিসের আশেপাশে কাজ করা ব্যক্তিদের একটি নির্দিষ্ট তালিকার আওতায় আনা হবে। তাদের জন্য নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে এবং তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা হবে। পরীক্ষামূলকভাবে এই পদ্ধতিটি প্রথমে ঢাকা ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে চালু করা হবে এবং সফল হলে পরবর্তীতে তা সারা দেশে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মাধ্যমে জনগণের হয়রানি উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।সাক্ষাৎকারে ২০০৬ সালে নিয়োগবঞ্চিত উপ-পরিদর্শক বা এসআইদের বিষয়টিও উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাদের নিয়োগের ফাইলটি কেন অনুমোদন পায়নি তা খতিয়ে দেখা হবে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে তাদের নিয়োগ প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো পুলিশ বিভাগে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং দক্ষ কর্মকর্তাদের কাজের সুযোগ করে দেওয়া। পুরো প্রশাসনকে গণমুখী ও জনবান্ধব করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন