রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন: যেভাবে হবে নির্বাচন

জাতীয় ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন: যেভাবে হবে নির্বাচন

সংসদ অধিবেশনের প্রস্তুতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তবে বিগত সংসদের স্পিকার ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার বর্তমানে কারাগারে থাকায় এই উদ্বোধনী অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। 

সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিটি রাজনৈতিক ইতিহাসে একেবারেই ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম বৈঠকে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করতে হয়। প্রথাগতভাবে বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সভাপতিত্ব করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে দুজনের কেউই দায়িত্ব পালনের অবস্থায় না থাকায় সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধির আশ্রয় নিতে হচ্ছে। 

সংসদ বিষয়ক গবেষকদের মতে, এ অবস্থায় রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো সংসদ সদস্যকে দিয়ে অধিবেশনের সূচনা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাতে হবে। কার্যপ্রণালী বিধির ৫ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই মনোনয়ন প্রদান করবেন, যা মূলত সংসদ নেতার পরামর্শক্রমে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।১২ মার্চের অধিবেশনে শুরুতেই নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো একজন সংসদ সদস্য স্পিকার হিসেবে যোগ্য একজনের নাম প্রস্তাব করবেন এবং অন্য একজন তা সমর্থন করবেন। যদি স্পিকার পদে একাধিক প্রার্থী না থাকে, তবে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচন সম্পন্ন হবে। 

নতুন স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর সভাপতিত্বে শুরু হবে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া। এই দুই পদের নির্বাচন শেষ হলে নিয়ম অনুযায়ী অধিবেশন সাময়িক বিরতি দেওয়া হবে এবং রাষ্ট্রপতি নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পাঠ করাবেন। শপথ গ্রহণের পরই তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ পরিচালনার পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং ওই দিনই রাষ্ট্রপতি সংসদে তাঁর ভাষণ দেবেন।

এবারের সংসদে রাজনৈতিক সমীকরণ ও নেতৃত্বের বিষয়টিও ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। 

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জোটের পক্ষ থেকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নির্বাচিত করা হয়েছে। সংসদীয় কাঠামোতে বিরোধী দলের এই সবল উপস্থিতি সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সংসদের এই প্রথম অধিবেশনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সংসদ সচিবালয় ইতিমধ্যে অধিবেশন আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সচিবালয়ের সূত্রমতে, ১২ মার্চ নতুন স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়েই পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হবে ত্রয়োদশ সংসদের আইন প্রণয়ন ও সংসদীয় সকল কার্যক্রম। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন শেষে সংসদ সদস্যরা পরবর্তী সংসদীয় কার্যক্রমগুলোতে অংশগ্রহণ করবেন এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখবেন।