রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কওমি মাদ্রাসার অবদানের কথা স্মরণ করলেন ধর্মমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ৪, ২০২৬, ১০:২০ পিএম

কওমি মাদ্রাসার অবদানের কথা স্মরণ করলেন ধর্মমন্ত্রী

বক্তব্য দিচ্ছেন ধর্মমন্ত্রী

বাংলাদেশে কুরআন শিক্ষার প্রসারে কওমি মাদ্রাসাগুলোর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি বলেছেন যে এদেশে কুরআন শিক্ষার ক্ষেত্রে কওমি মাদ্রাসাগুলো শুরু থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে আরও সংগঠিত করা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা জরুরি যাতে তারা ভবিষ্যতে সমগ্র বাংলাদেশে পবিত্র কুরআনের আলো আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারে। 

বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘হিফযুল কুরআন ও কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা-২০২৬’ (সিজন-২)-এর ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী অংশ নেন। 

পবিত্র রমজান মাসকে রহমত ও বরকতের মাস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন যে এই মাসেই মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআন নাজিল করেছেন। রমজানের এই পবিত্র ক্ষণে এমন একটি মহতী প্রতিযোগিতার আয়োজন করার জন্য তিনি ছাত্রদলকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। 

তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন যে কেবল হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পবিত্র কুরআনকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুসরণ করতে হবে এবং এর হুকুমগুলোর প্রতিফলন ঘটাতে হবে।ধর্মমন্ত্রী তার বক্তব্যে আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন যে এই মহাবিশ্বের সবকিছুর মালিক মহান আল্লাহ এবং তিনিই সকল ক্ষমতার উৎস। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং রিজিকের ব্যবস্থা করেছেন। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে তিনি রহমত ও দয়া আরও বাড়িয়ে দেন বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

 রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা টেনে তিনি বলেন যে আল্লাহ একটি জালিম সরকারের হাত থেকে দেশকে মুক্তি দিয়েছেন এবং কুদরতিভাবে বর্তমান পরিস্থিতির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। মানুষের ইচ্ছা নয় বরং আল্লাহর ইচ্ছাতেই সবকিছু পরিচালিত হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।বাংলাদেশে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন যে তিনিই বাংলাদেশের সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ সংযোজন করেছিলেন। 

এছাড়া সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টিও সংবিধানে তিনিই সন্নিবেশিত করেন। জিয়াউর রহমানই প্রথম ওআইসি ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন এবং আলেম-ওলামাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ইসলামের খেদমতে কাজ করেছেন।ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। 

এছাড়া মাহাদুল ক্বিরাত বাংলাদেশের পরিচালক হাফেজ মাওলানা আহমদ বিন ইউসুফ আযহারীসহ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতাটি চারটি গ্রুপে বিভক্ত ছিল যেখানে অনুর্ধ্ব ২৫ বছর বয়সী কুরআনের হাফেজসহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বিজয়ীদের মাঝে নগদ অর্থ, সম্মাননা ক্রেস্ট ও বিভিন্ন আকর্ষণীয় উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।