বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হাদি হত্যার ‘মাস্টারমাইন্ড’ বাপ্পির আয়-ব্যয়-সম্পদের অসঙ্গতি পেল সিআইডি!

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ৬, ২০২৬, ১২:০৩ পিএম

হাদি হত্যার ‘মাস্টারমাইন্ড’ বাপ্পির আয়-ব্যয়-সম্পদের অসঙ্গতি পেল সিআইডি!

সিআইডির জালে বাপ্পি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পির বিরুদ্ধে আড়াই কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শুক্রবার সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বাপ্পি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে পল্লবী ও মিরপুর এলাকায় চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। 

এই অর্থপাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মামলাটি দায়ের করেছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।সিআইডির অনুসন্ধানে দেখা গেছে বাপ্পি নিজেকে তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী এবং ইটভাটার মালিক হিসেবে পরিচয় দিলেও তার আয়ের বড় অংশই এসেছে অবৈধ উৎস থেকে। 

২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি মোট ৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি আয় করেছেন বলে দাবি করলেও সিআইডি তার নামে ৪ কোটি ২৭ লাখ টাকার বেশি সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে। 

এই বিশাল অংকের সম্পদের মধ্যে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকারও বেশি অর্থের কোনো বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি। এছাড়া পল্লবী এলাকায় জমি কেনার সময় দলিলে প্রকৃত মূল্য গোপন করে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা পাচারের প্রমাণ মিলেছে। সিআইডি জানিয়েছে বাপ্পি দলিলে জমির দাম মাত্র ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দেখালেও বাস্তবে সেই জমির দাম ছিল ৫৩ লাখ টাকার বেশি।অনুসন্ধানে বাপ্পির ব্যবসায়িক আয়ের উৎস নিয়েও জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাগেরহাটে তার মালিকানাধীন চৌধুরী অ্যান্ড খান অটোব্রিকস নামের ইটভাটাটি নিষিদ্ধ এলাকায় স্থাপন করায় পরিবেশ অধিদপ্তর এর কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। 

তবুও এই অবৈধ ভাটা থেকে তিনি বিপুল পরিমাণ আয় দেখিয়ে সেই অর্থকে বৈধ করার চেষ্টা করেছেন। এছাড়া সিআইডি আরও জানতে পেরেছে যে বাপ্পি তার প্রতিষ্ঠানের অডিট রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে ভয়াবহ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। যে নিরীক্ষকের নাম ব্যবহার করে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের অডিট প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে তিনি করোনা মহামারির সময়েই মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর ও প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা জাল করে বাপ্পি এই প্রতিবেদনগুলো তৈরি করেছিলেন।

উল্লেখ্য যে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য শরীফ ওসমান হাদিকে রাজধানীর পল্টন এলাকায় গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে যে ভারত থেকে এই হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন বাপ্পি। হাদি হত্যার এই মামলাটি বর্তমানে সিআইডি অধিকতর তদন্ত করছে। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট জানিয়েছে বাপ্পির বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৫৬ কোটি টাকারও বেশি অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং বর্তমানে আদালতের আদেশে তার কিছু হিসাব জব্দ রাখা হয়েছে। অর্থপাচার ও আর্থিক অপরাধ দমনে সিআইডির এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।