বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ফেব্রুয়ারিতে সড়কে ঝরল ৪৪৭ প্রাণ

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ৬, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

ফেব্রুয়ারিতে সড়কে ঝরল ৪৪৭ প্রাণ

সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান

গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের সড়কগুলোতে মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত ছিল। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে গত এক মাসে দেশে ৪৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে যেখানে ৪৪৭ জন নিহত এবং ১১৮১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেল ও নৌ-পথসহ সর্বমোট ৪৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন ১১৯৭ জন। 

শুক্রবার সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বার্ষিক পর্যবেক্ষণের তথ্য তুলে ধরা হয়। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রের সংবাদের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংগঠনের দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী গত মাসে সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে। এই সময়ে ১৫১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৭ জন নিহত এবং ১৩৭ জন আহত হয়েছেন। এটি মোট দুর্ঘটনার ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং মোট নিহতের ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। 

বিভাগীয় হিসেবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে যেখানে ১১৩টি দুর্ঘটনায় ১১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে বরিশাল বিভাগে যেখানে ২২টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মহাসড়কগুলোতে রোড মার্কিংয়ের অভাব এবং ফিডার রোড থেকে হঠাৎ যানবাহন উঠে আসাকে দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের পেশাগত পরিচয় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে নিহতদের মধ্যে ৩ জন পুলিশ সদস্য, ৩ জন সেনা সদস্য, ১ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী এবং ২ জন আনসার সদস্য রয়েছেন। 

এছাড়া ৮৫ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭২ জন পথচারী, ৪৩ জন নারী, ৪১ জন শিশু এবং ৪৭ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের তালিকায় ২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ৫ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর নামও উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে ৪২ দশমিক ৬৩ শতাংশ দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে এবং ২৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে সংঘটিত হয়েছে। এর বাইরে ২৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে গ্রামীণ বা ফিডার রোডে।

দুর্ঘটনার ধরন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ৪১ দশমিক ৭৪ শতাংশ ক্ষেত্রে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং ৩৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। যানবাহনের ত্রুটি, অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গতি এবং বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানোকে দুর্ঘটনার প্রধান উৎস হিসেবে দায়ী করা হয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত রিক্সা, মোটরসাইকেল ও নসিমন-করিমনের অবাধ চলাচলকে অন্যতম ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের পক্ষ থেকে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, দক্ষ চালক তৈরি এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে।