মার্চ ৬, ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে আকাশপথ বন্ধ থাকায় গত সাত দিনে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ২৪৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে যে শুধুমাত্র শুক্রবারেই বিভিন্ন এয়ারলাইনসের অন্তত ৩৩টি নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রাখা হয়েছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক আকাশপথ ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় অধিকাংশ এয়ারলাইনস তাদের নির্ধারিত সূচি স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে।
বেবিচক থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি এবং ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এরপরের দিনগুলোতে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে যেখানে ২ মার্চ সর্বোচ্চ ৪৬টি ফ্লাইট এবং ৩ মার্চ ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। পরবর্তী দুই দিন অর্থাৎ ৪ ও ৫ মার্চ যথাক্রমে ২৮টি ও ৩৬টি ফ্লাইট বন্ধ ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় এয়ারলাইনসগুলো আপাতত কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র বাহিনীর মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় ওই অঞ্চলের বেশ কিছু দেশের আকাশপথ বর্তমানে বেসামরিক উড্ডয়নের জন্য অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।শুক্রবার বাতিল হওয়া ৩৩টি ফ্লাইটের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল কুয়েত এয়ারওয়েজ ও জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টি করে ফ্লাইট। এছাড়া শারজাহগামী এয়ার অ্যারাবিয়ার ৬টি এবং কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়।
দেশীয় এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে ইউএস-বাংলা ৫টি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস তাদের ২টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। একই দিনে এমিরেটস এয়ারলাইনস ৪টি এবং ফ্লাই দুবাই ও গালফ এয়ারের ২টি করে ফ্লাইট বাতিল করা হয়। একের পর এক ফ্লাইট বাতিলের ফলে হাজার হাজার প্রবাসী এবং জরুরি কাজে বিদেশগামী যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে পৌঁছে ফ্লাইট বাতিলের খবর শুনে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছে এবং আকাশপথ পুনরায় নিরাপদ ও উন্মুক্ত হলে দ্রুত ফ্লাইট চালুর প্রক্রিয়া শুরু করার আশ্বাস দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন