মার্চ ৭, ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং বর্তমান মজুত পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, জ্বালানি তেল নিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
তিনি জানান যে, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।মন্ত্রী জানান, আগামী ৯ মার্চ দেশে আরও দুটি বড় তেলবাহী জাহাজ বা ভেসেল এসে পৌঁছাবে।
ফলে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের স্থবিরতা আসার কোনো সুযোগ নেই। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাবে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে জ্বালানি তেলের ওপর সাময়িক রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে।
কিন্তু এই রেশনিং দেখে একশ্রেণীর মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ ও মজুত করার চেষ্টা করছেন, যা পরিস্থিতিকে কিছুটা জটিল করে তুলছে। তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, সরকার পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং তেলের কোনো অভাব নেই।কিছু পেট্রোল পাম্পে তেল না পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিটি পাম্পে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহ করছে। যদি কোনো পাম্প তাদের একদিনের বরাদ্দ নির্ধারিত সময়ের আগেই বিক্রি করে ফেলে, তবে তাদের পরবর্তী সরবরাহ না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
তবে কেউ যদি কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে বা বেশি লাভের আশায় তেল বিক্রি বন্ধ রাখে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামীকাল থেকেই সারাদেশে মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে জ্বালানি পাচার ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবিকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বর্তমানে চালু থাকা দুই লিটারের রেশনিং ব্যবস্থা এখনই বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হবে তা যেহেতু নিশ্চিত নয়, তাই সরকারকে আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হচ্ছে। এলএনজি এবং এলপিজি গ্যাস প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কাতার থেকে নিয়মিত এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে এবং এর পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্ত্রী জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে তেল সংগ্রহের আহ্বান জানান এবং গণমাধ্যমকে অনুরোধ করেন যাতে সঠিক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা হয়। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন যে, তাড়াহুড়া করে তেল কেনার কোনো প্রয়োজন নেই কারণ পাম্পগুলোতে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বর্তমানে সুসংহত রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন