মার্চ ১৫, ২০২৬, ০১:২২ পিএম
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও শিক্ষা খাতের সংস্কার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন জানিয়েছেন যে বর্তমানে বিচ্ছিন্নভাবে থাকা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধাভোগীদের সমন্বিত একটি কাঠামোর আওতায় আনা হবে। স্পিকার মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে রোববার সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই তথ্য জানান।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে সামাজিক ভাতার বণ্টন পর্যায়ে সব ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন যে ভাতার টাকা বিতরণের সময় সুবিধাভোগীদের কাছে টাকা দাবি করার মতো অনিয়মের খবর মন্ত্রণালয়ের হাতে রয়েছে। এই ধরনের দুর্নীতি রোধে সরকার `ফ্যামিলি কার্ড` নামে একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করেছে যার মাধ্যমে প্রতিটি সুবিধাভোগী পরিবারকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা হবে।
বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে দেশকে উত্তরণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এর ফলে ভাতা বিতরণের পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ হবে এবং মাঝপথে অর্থ লোপাটের সুযোগ থাকবে না।ফ্যাসিস্ট আমলে তৈরি করা সুবিধাভোগীদের তালিকা নিয়ে সংসদে কড়া সমালোচনা করেন নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুক। এর জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান যে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ভাতার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান সেই তালিকাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
নীতিমালা সংশোধন করে অযোগ্যদের বাদ দিয়ে প্রকৃত অভাবী ও ভাতা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। নড়াইল-২ আসনের আতাউর রহমানের প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন যে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার এখন বণ্টন পর্যায়ে সমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায়।
একই অধিবেশনে শিক্ষা খাতের পরিবর্তন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি জানান যে সারাদেশে নৈতিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে সনদ ও যোগ্যতার কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে যা দ্রুত নিরসন করার চেষ্টা চলছে। শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মকেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং কারিআনা পাশধারী সনদপ্রাপ্তদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে সরকারের সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতির আওতায় এনে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার কাজও শুরু হয়েছে।
এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী পূর্ববর্তী সরকারের প্রবর্তিত লটারি ভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতির সমালোচনা করেন। তিনি এই পদ্ধতিকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করে জানান যে আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তির নিয়ম নির্ধারণের জন্য সব স্টেকহোল্ডার বা অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এর পাশাপাশি ইবতেদায়ী কওমী এবং সাধারণ শিক্ষাসহ দেশের সব শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী আরও জানান যে দেশে বর্তমানে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এবং নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আগে সেগুলোর মানোন্নয়নের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া স্থগিত থাকা এমপিওভুক্তির আবেদনগুলো পুনরায় যাচাই বাছাই করে নতুন আবেদন আহ্বান করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন