রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ৫ দিনের রিমান্ড চেয়েছে ডিবি

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ২৪, ২০২৬, ০৩:০০ পিএম

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ৫ দিনের রিমান্ড চেয়েছে ডিবি

ডিবির হাতে মাসুদ উদ্দিন

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে। পল্টন থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে ডিবি পুলিশ। 

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন। 

তিনি জানান যে গ্রেপ্তারকৃত সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বেশ কিছু অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালের এক-এগারো পরবর্তী সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী কুশীলব হিসেবে পরিচিত। সে সময় তিনি সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে ছিলেন এবং গুরুতর অপরাধ দমন সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেন। পর্দার আড়ালে থেকে তিনি যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 

ওই সময়ে দেশের শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে যে ওই সময় অনেক বিত্তশালী ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছিল।তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার যে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ কার্যকর করার চেষ্টা হয়েছিল, তার অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। 

ওই সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের পর সামরিক গোয়েন্দা হেফাজতে নির্মম নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। নির্যাতনের একপর্যায়ে তারেক রহমানকে উঁচুতে তুলে ফ্লোরে ফেলে তাঁর মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও তখন সামনে আসে। জেনারেল মাসুদের সরাসরি তত্ত্বাবধানেই কতিপয় অতিউৎসাহী কর্মকর্তা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে ভুক্তভোগী ও রাজনৈতিক মহলের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে।

পারিবারিকভাবে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই মরহুম সাঈদ ইস্কান্দারের ভায়রা ভাই। সেই সুবাদে বিএনপি সরকারের সময়ে তিনি দ্রুত পদোন্নতি পান। তবে মঈন-ফখরুদ্দিন সরকারের দেড় বছরের মাথায় সেনাপ্রধানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে ২০০৮ সালে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার করে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

রাজনীতি ছাড়াও তিনি জনশক্তি রপ্তানি ও রেস্তোরাঁ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে কারসাজির মাধ্যমে বহু মানুষকে প্রতারিত করার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে।সবশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় ফেনীর মহিপালে নির্বিচার গুলিবর্ষণে বেশ কয়েকজন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি অন্যতম অভিযুক্ত আসামি। 

প্রায় দুই বছর ধরে এই হত্যাযজ্ঞের মামলায় পলাতক থাকার পর অবশেষে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেন। ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সকল মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। ১৯৭৫ সালে রক্ষীবাহিনীর সদস্য হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর এই পতন এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।