রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত দিতে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ২৬, ২০২৬, ১০:০৩ এএম

হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত দিতে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে

স্মৃতিসৌধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফিরিয়ে আনতে ভারতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে এই অনুরোধ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় আসামিদের হস্তান্তরের এই আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। 

বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনেই প্রথম গণহত্যা শুরু হয়েছিল এবং এখান থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। তিনি ইতিহাসের স্মৃতিচারণ করে উল্লেখ করেন যে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান এই গণহত্যার খবর পেয়েই চট্টগ্রামে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। 

পরবর্তীতে ২৭শে মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে বিশ্বের সমর্থন কামনা করেন। একেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস বলে অভিহিত করেন মন্ত্রী। শহীদদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন যে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের সদস্যদের রক্তদানই ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণার মূল সূচনা।ভারতের কাছে আসামিদের হস্তান্তরের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান যে সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। 

বন্দি বিনিময় চুক্তির সব শর্ত মেনে আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। এছাড়া সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। দীর্ঘ কয়েক বছর বিরতির পর পুনরায় স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ শুরু হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন যে এর মাধ্যমে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী হবে।

পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে বাহিনীকে আরও সমৃদ্ধ ও সক্ষম করে তুলতে বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে কারিগরি সহায়তা এবং প্রশিক্ষণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এই সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে ফলপ্রসূ কথা হয়েছে বলে তিনি তথ্য দেন। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে অপরাধ দমনে পুলিশকে আরও দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ মো. আলী হোসেন ফকির এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী শহীদ পুলিশ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।