মার্চ ৩১, ২০২৬, ১০:৩১ এএম
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৫৬তম গভর্নিং বডি অধিবেশনে বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি অভাবনীয় সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছে বিশ্বের ৪৭টি দেশ। সোমবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর পূর্ণ আস্থা জ্ঞাপন করে অভিনন্দন জানায়।
একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করায় বাংলাদেশের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো।
অধিবেশনের আলোচনায় উঠে আসে যে, ২০১৯ সালের জুন মাসে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের শ্রমিক প্রতিনিধিদের দায়ের করা সেই মামলার প্রেক্ষিতে ২০২১ সালে একটি শ্রম খাত সংস্কার রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হয়।
সোমবার সেই রোডম্যাপের নবম অগ্রগতি রিপোর্ট পেশ করে বর্তমান সরকার। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনার পর ৫৬ সদস্যবিশিষ্ট গভর্নিং বডির ১৯টি রাষ্ট্র, দুটি আঞ্চলিক গ্রুপভুক্ত আরও ২৮টি দেশ এবং আন্তর্জাতিক মালিকপক্ষ বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের সুদৃঢ় অঙ্গীকারের ভূয়সী প্রশংসা করে। একই সঙ্গে তারা শ্রম খাতের উন্নয়নে চলমান মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জোরালো দাবি জানায়।জেনেভায় এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
উপস্থিত ছিলেন জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান ও শ্রম সচিব আব্দুর রহমান তরফদার। আলোচনার শুরুতে উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বিশ্ব নেতাদের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। তিনি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার গুরুত্ব এবং শ্রমিকের সুরক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কথা দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেন। মাহদী আমিন উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের জনগণ বর্তমান সরকারকে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তার মূলে রয়েছে মানবাধিকার, আইনের শাসন, বাক-স্বাধীনতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি।
সরকারের পক্ষ থেকে অধিবেশনে জানানো হয় যে, বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫-কে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে প্রণীত সংশোধনীগুলোর বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের কথা তুলে ধরা হয়। এর ফলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয় অধিবেশনে।
গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করে আইএলও সহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করা হয়।বাংলাদেশের এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপে সমর্থনকারীদের তালিকায় ছিল আরব গ্রুপের ২২টি দেশ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬টি দেশ। এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন, রাশিয়া, জাপান, ব্রিটেন, ইরান ও নেপালসহ ১৯টি একক রাষ্ট্র বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে।
এর মধ্যে ১৪টি দেশ ও প্রভাবশালী দুটি গ্রুপ মামলাটি দ্রুত তুলে নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা শ্রম আইন সংশোধন এবং পরিদর্শক নিয়োগের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করলেও রোডম্যাপটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের দিকে নজর রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। এই কূটনৈতিক সমর্থন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন সরকারের গ্রহণযোগ্যতাকে আরও সুসংহত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন