রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত এনে জনকল্যাণে ব্যয় হবে: প্রধানমন্ত্রী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত এনে জনকল্যাণে ব্যয় হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে পাচার হওয়া আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত আনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, পাচারকৃত এই বিশাল অঙ্কের অর্থ উদ্ধার করে তা দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ও জনগণের সম্পদ যারা বিদেশে সরিয়ে নিয়েছে, তাদের কাছ থেকে তা ফিরিয়ে আনা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী পাচার হওয়া অর্থের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। 

এই অর্থের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন।

পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি পদক্ষেপের অগ্রগতি সম্পর্কে সংসদকে অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি বা এমএলএটি স্বাক্ষরের বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি পাওয়া গেছে। বাকি সাতটি দেশের সঙ্গেও এই চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।

অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে গৃহীত অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে সংসদ নেতা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১১টি বড় মামলার অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন, সিআইডি এবং এনবিআরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল বা জেআইটি কাজ করছে। সরকার এই প্রক্রিয়াকে আইনি কাঠামোর মধ্যে রেখেই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করছে।

বিদেশে ও দেশের অভ্যন্তরে জব্দ করা সম্পদের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে এ পর্যন্ত দেশে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকার বেশি স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশেও ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকার বেশি সম্পদ অবরুদ্ধ করা সম্ভব হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে ও বিদেশে মোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ বর্তমানে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে বা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

তারেক রহমান আরও জানান, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত ১৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত সব আর্থিক অপরাধের পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি। জনগণের হারানো আমানত ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।