সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬,

শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক আজ

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১০:৩৯ এএম

শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক আজ

প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিল্প খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে আজ শনিবার শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি ও উদ্যোক্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছে সরকারি নির্ভরযোগ্য সূত্র। 

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও অংশগ্রহণ করবেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ’ বা প্রাইভেট সেক্টর অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। 

মূলত সরকারের নীতিনির্ধারক এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি সরাসরি ও কাঠামোগত সংলাপের পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যেই এই প্ল্যাটফর্মটি গঠন করা হয়েছে। এর ফলে শিল্প খাতের যেকোনো সমস্যা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার সুযোগ তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত এই শক্তিশালী পরিষদে অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি বস্ত্র, ওষুধ, ফুটওয়্যার, অটোমোবাইল এবং ভোগ্যপণ্য খাতের ৯ জন বিশিষ্ট উদ্যোক্তা সদস্য হিসেবে থাকছেন।

বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে জ্বালানি সংকট বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। শিল্পমালিকরা দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি সংকটের ফলে কারখানার পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করবেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ হার এবং ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা নিয়ে শিল্পোৎপাদনকারীরা তাঁদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরতে পারেন। 

পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজারের চলমান অস্থিরতা নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের অবদানকে সরকার বিশেষ মূল্যায়ন করছে। এই উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের মাধ্যমে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব ঘুচবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

অর্থনৈতিক সংস্কারের এই যাত্রায় ব্যবসায়ীদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আজকের এই বৈঠক থেকে শিল্প খাতের সংকট উত্তরণে সুনির্দিষ্ট কোনো রোডম্যাপ বা ঘোষণা আসতে পারে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন দেশের ব্যবসায়ী সমাজ। নীতিনির্ধারকদের এই তৎপরতা দেশের অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।