রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তেলের সংকট কৃত্রিম, দায়ী অসাধু ব্যবসায়ীরা: জ্বালানিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

তেলের সংকট কৃত্রিম, দায়ী অসাধু ব্যবসায়ীরা: জ্বালানিমন্ত্রী

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই বলে জাতীয় সংসদকে নিশ্চিত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানান, বর্তমানে বাজারে তেলের যে অভাব দেখা যাচ্ছে, তা মূলত একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুত ও কালোবাজারির ফল। এই অসাধু চক্রটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আজ রোববার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য দেন। 

অধিবেশনে সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে তেলের পর্যাপ্ততার কথা বলা হলেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্রাহকদের ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি পুনরায় তেল নেওয়া ঠেকাতে মোটরসাইকেলে বিশেষ চিহ্ন বা রং ব্যবহার করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতির জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী জানান, গত বছরের মার্চ মাসের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ মোটেও কমেনি। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও অসাধু ব্যবসায়ীদের অবৈধ মজুত এবং জনমনে তৈরি হওয়া ভীতিই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। অনেক গ্রাহক আতঙ্কে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনছেন, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে। পাম্পগুলোতে তেল বিক্রির ওপর কোনো বিধিনিষেধ বা মোটরসাইকেলে চিহ্ন দেওয়ার সরকারি কোনো নির্দেশনা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া কঠোর ব্যবস্থার তথ্য তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, কৃত্রিম সংকট নিরসনে সারা দেশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) পক্ষ থেকে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মজুতদারদের ধরতে দেশজুড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত ৯ হাজার ১১৬টি অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বেশি অর্থদণ্ড আদায়ের পাশাপাশি ৫ লাখ ৪২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে।

তেল বিপণন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে সরকারের নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগরীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকদের জ্বালানি সংগ্রহের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত থাকবে। এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে পুরো দেশে এটি বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশের এলপিজি বাজার প্রায় ৯৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ আমদানিনির্ভর। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম’ থেকে আমদানির তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অবহিত করা হচ্ছে বলে তিনি সংসদকে জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারের এই কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে দ্রুতই তেলের বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।