বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

গ্যাস নিয়ে জরুরি নির্দেশনা দিল সরকার, জারি হলো প্রজ্ঞাপন

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১১:২৮ এএম

গ্যাস নিয়ে জরুরি নির্দেশনা দিল সরকার, জারি হলো প্রজ্ঞাপন

গ্যাস সেবায় সরকারের প্রজ্ঞাপন

গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের হয়রানি কমানো এবং সেবা প্রদান পদ্ধতি আরও সহজীকরণের লক্ষ্যে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। 

ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখার বিষয়টিকে সামনে রেখে গ্রাহকবান্ধব এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, দেশের বর্তমান শিল্পায়ন ও আবাসিক চাহিদার প্রেক্ষিতে গ্যাস খাতের যে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সেবাকে আরও গতিশীল করা প্রয়োজন। নতুন নির্দেশনায় মূলত শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য বেশ কিছু প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। 

প্রথম নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, গ্যাস সরঞ্জামাদির অনুমোদিত ঘণ্টাপ্রতি লোড অপরিবর্তিত রেখে যদি কেউ সরঞ্জাম পুনর্বিন্যাস বা প্রতিস্থাপন করতে চান, তবে সেটি তালিকাভুক্ত যেকোনো ঠিকাদারের মাধ্যমে করা যাবে। এই ধরনের কাজের ক্ষেত্রে এখন থেকে সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কোনো পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না। ফলে গ্রাহকদের দীর্ঘসূত্রিতা থেকে মুক্তি মিলবে।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, একই আঙিনায় বা সীমানার মধ্যে অবস্থিত এবং একই মালিকানাধীন কোনো শিল্প ইউনিটের অব্যবহৃত লোড এখন থেকে অন্য ইউনিটে স্থানান্তর করা যাবে। তবে এই স্থানান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা আঞ্চলিক প্রধানের অনুমোদন নিতে হবে। এটি শিল্প মালিকদের উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রাখতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তৃতীয় নির্দেশনায় ক্যাপটিভ পাওয়ার বা নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, একই আঙিনায় ও একই মালিকানাধীন আরেকটি শিল্প ইউনিটে ক্যাপটিভ পাওয়ার শ্রেণিতে থাকা কার্যকর লোডকে প্রয়োজনে সাধারণ শিল্প শ্রেণিতে স্থানান্তর করা যাবে। তবে কোনো অবস্থাতেই শিল্প শ্রেণিতে থাকা কার্যকর লোডকে ক্যাপটিভ পাওয়ার শ্রেণিতে রূপান্তর বা স্থানান্তর করা যাবে না। এটি মূলত গ্যাসের পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং অপচয় রোধ করতেই করা হয়েছে।

সর্বশেষ নির্দেশনায় গ্যাস মিটার স্থাপন সংক্রান্ত জটিলতা দূর করার কথা বলা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মিটার স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর অনধিক সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণ ও বিপণন কোম্পানিকে অবশ্যই এর গুণগত মান যাচাই করতে হবে। এর ফলে গ্রাহকরা দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরাপদ সংযোগ পাবেন এবং মিটার সংক্রান্ত কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে। সরকারের এই গ্যাস নিয়ে জরুরি নির্দেশনা দ্রুত কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল গ্যাস কোম্পানিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।