এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
আগামী মে মাস পর্যন্ত দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা নিশ্চিত করতে সরকার পুরোপুরি সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমানের আনা এক আলোচনার জবাবে তিনি এই আশাব্যঞ্জক তথ্য প্রদান করেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী জানান যে, সরকারের সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে দেশে আপাতত জ্বালানি সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে অতীতের কঠিন পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি যখন বর্তমান সরকার গঠিত হয়, তখন দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ছিল মাত্র সাত দিনের জন্য। এর কিছুকাল পরেই ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় বাংলাদেশে আমদানিকৃত তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা চরম বিঘ্নিত হয়েছিল। তবে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ ও বিকল্প উৎসের সন্ধানের ফলে বর্তমানে একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এখন সরকার আগামী জুন ও জুলাই মাসের বর্ধিত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তুলনা করে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত দুই মাসে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম ১৪২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেলেও দেশে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় যেখানে জ্বালানির দাম ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশে সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে মাত্র ১০ থেকে ১৬ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করেছে। বিশেষ করে কৃষকদের সেচ কাজের কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে প্রথম ৪৫ দিন সরকার কোনো দামই বাড়ায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।সংসদ অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি তেল নিয়ে অসাধু চক্রের অপতৎপরতার কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্যও তুলে ধরেন।
তিনি বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান যে, পাবনা, নাটোর ও কুষ্টিয়াসহ দেশের বেশ কিছু স্থানে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত ও পাচারের চেষ্টা চলছে। কোথাও পানির ট্যাংকে, কোথাও ড্রয়িংরুমে আবার কোথাও মাটির নিচে ১০ হাজার লিটার পর্যন্ত ডিজেল মজুতের খবর পাওয়া গেছে। এমনকি জরুরি সেবায় নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্সে করেও তেল পাচার করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। প্রতিমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, এসব অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।
জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা চালু করেছে। প্রতিমন্ত্রী অমিত জানান, এটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে যাতে তেলের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা যায়। বিরোধী দলীয় নেতার ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট একটি জাতীয় সমস্যা এবং এটি মোকাবিলায় সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। জনগণের স্বার্থে এবং কৃষকদের ভর্তুকি নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ দূরদর্শিতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন