রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কবে খুলছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম

কবে খুলছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর?

ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত গণভবন, যা একসময় ছিল ক্ষমতা ও শাসনের কেন্দ্রবিন্দু, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর তা ছাত্র-জনতার ত্যাগের স্মারক হিসেবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করার ঘোষণা দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে দীর্ঘসূত্রতা আর সরকারি কাজে ধীরগতির কারণে আজও এই জাদুঘরের মূল ফটক সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হয়নি। 

২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিপ্লবের সেই টাটকা আবেগ ও ইতিহাসের সাক্ষী হতে চাওয়া মানুষের মনে এখন গভীর শঙ্কা ও উৎকণ্ঠা ডানা মেলছে।

আইনি কাঠামো ও পরিধি বৃদ্ধি জাদুঘরটির আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছিল। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাস করা হয়। 

এই নতুন বিলের মাধ্যমে জাদুঘরটির পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এখন কেবল গণভবনই নয়, বরং বিগত সরকারের আমলের কুখ্যাত গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ এবং যেসব স্থানে জুলাই বিপ্লবের সময় নৃশংস নির্যাতন চালানো হয়েছে, সেগুলোকে এই মূল জাদুঘরের ‘শাখা জাদুঘর’ হিসেবে সংরক্ষণ করা যাবে। এছাড়া এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।অপেক্ষার প্রহর ও যোদ্ধাদের ক্ষোভ ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ৪০ কোটি টাকারও বেশি বাজেট অনুমোদনের পর লক্ষ্য ছিল আগস্টেই এটি উদ্বোধন করা হবে।

কিন্তু সেই সময় পার হয়ে ২০২৬ সাল চললেও দর্শনার্থীদের জন্য দ্বার খোলেনি। জুলাই বিপ্লবে আহত নাইমুল ইসলাম খান অনিকের মতো যোদ্ধারা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা এই বিলম্বে ক্ষুব্ধ। শহীদ শাইখ আসহাবুল ইয়ামিনের বাবা মো. মহিউদ্দিন এই পরিস্থিতির জন্য জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বের অনভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছেন। তাদের মতে, বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা ধারণ করতে না পারাই এই দীর্ঘসূত্রতার কারণ।

আমলাতান্ত্রিক কারসাজির অভিযোগ জাদুঘরটির উদ্বোধন ঝুলে থাকার পেছনে প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা প্রভাবশালী মহলের হাত দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক উপদেষ্টা দাবি করেছেন, একজন সিনিয়র আমলার কারসাজিতে কাজ থমকে আছে, যিনি বিগত সরকারের প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তবে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাবেক সিইও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সরকার এই বিষয়ে আন্তরিক এবং দ্রুত এটি জনগণের জন্য খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

বিপ্লবের জীবন্ত স্মারক যেভাবে সাজছে গণভবনের ২৯ হাজার বর্গফুটের দ্বিতল ভবনটি এখন বিভিন্ন থিম্যাটিক গ্যালারিতে সাজানো হচ্ছে। এখানে ডিজিটাল ও ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তির মাধ্যমে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের ঐতিহাসিক বিবরণ, দেয়ালচিত্র, গ্রাফিতি এবং ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শিত হবে। দর্শনার্থীরা শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যসহ ঘটনার ধারাবাহিক বর্ণনা পাবেন। এছাড়াও শহীদদের ব্যবহৃত পোশাক, লেখা চিঠি এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষিত থাকবে। শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য এখানে আলাদা পাঠাগারের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।

২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাদুঘরটির কাজ পরিদর্শন করে একে ‘বিশ্বের এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। বর্তমানে এটি একটি সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হওয়ার পথে। ক্ষমতার দম্ভের প্রতীক থেকে গণভবন এখন জনতার আঙিনা হওয়ার অপেক্ষায়। তবে সাধারণ মানুষের দাবি—সব আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুতই যেন বিপ্লবের এই জীবন্ত দলিল সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।