সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

৭১-এর গণহত্যার প্রশ্নে অবস্থান নিলে জামায়াতের সঙ্গে বিতর্ক চলবে

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম

৭১-এর গণহত্যার প্রশ্নে অবস্থান নিলে জামায়াতের সঙ্গে বিতর্ক চলবে

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহিরউদ্দিন স্বপন বলেছেন, ১৯৭১ সালের গণহত্যার প্রশ্নে গ্রহণযোগ্য অবস্থান না নেওয়া পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিতর্ক চলবে। একইভাবে আওয়ামী লীগ রক্তের দাগ মুছে না ফেলা পর্যন্ত জুলাইয়ের বিতর্কের মীমাংসা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। 

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি এই বিতর্ক সংবিধান ও সংসদীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চালিয়ে যাবে এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।

তথ্যমন্ত্রী বর্তমান সংসদকে ইতিহাসের ব্যতিক্রম আখ্যা দিয়ে বলেন, ত্রয়োদশ সংসদের বৈচিত্র্য আগের ১২টি সংসদের চেয়ে আলাদা। আগে দেশের রাজনীতি মূলত দ্বিদলীয় কাঠামোয় থাকলেও এবার ভোটের পরিসংখ্যান ভিন্ন বাস্তবতা দেখাচ্ছে। জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের ভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াত আগে সব সময় পাঁচ শতাংশের নিচে ভোট পেলেও এবার তাদের পরিসংখ্যান পরিবর্তন হয়েছে।

অধিবেশনে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী কার্যত নিজেদের ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ হিসেবে মেনে নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০২৬-এ বীর মুক্তিযোদ্ধার যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে, জামায়াত তার বিরোধিতা করেনি। এনসিপির পক্ষ থেকে এটি লিখিতভাবে অনুসমর্থন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল যে ১৯৭১ সালে কারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা এবং খুন-ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ছিল।

বিদ্যুৎ খাতের সংকট প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় সংসদে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে। অর্থনীতির সূচক নিয়ে তিনি জানান, শেয়ার বাজারে দৈনিক টার্নওভার ৫০০ কোটি থেকে ১০০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে এবং রেমিট্যান্সেও উন্নতি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আগামী এক মাস পর ৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে ‍‍`নিরাপত্তা কার্ড‍‍` প্রবর্তনের দাবি জানান। তিনি বলেন, দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক শক্তি বলা হলেও এমপিরা এখন স্বাধীনভাবে চলতে পারছেন না। বিএনপির কর্মীদের দ্বারা জামায়াত কর্মীরা লাঞ্ছিত হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপিতে যেমন মুক্তিযোদ্ধা আছে, জামায়াতে ইসলামীতেও তেমন মুক্তিযোদ্ধা আছে।

রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির মুজিবুর রহমান কুরআনের আইন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে বলেন, মানুষের তৈরি আইনের কবর রচনা করে আল্লাহর আইন কার্যকর করা উচিত। তিনি একটি ইসলামী বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দেন। অন্যদিকে জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খান জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব নিয়ে বলেন, তারা কখনোই এই আন্দোলনের একক দাবিদার ছিলেন না, বরং সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে আন্দোলন করেছে। তিনি সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় কার্যকর করার আহ্বান জানান।

অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে নকল, প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতি আর চলবে না। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সংসদ সদস্যদের ভাষার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংযমী হওয়ার পরামর্শ দেন। প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জুলাই আন্দোলনকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছে। আলোচনায় আরও অংশ নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খানসহ অন্যান্যরা।