শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

প্রথম অধিবেশনে পাস ৯৪ বিল ও ১৩৩ অধ্যাদেশ

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ১১:১২ পিএম

প্রথম অধিবেশনে পাস ৯৪ বিল ও ১৩৩ অধ্যাদেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঘটনাবহুল প্রথম অধিবেশন শেষ হয়েছে। ২৫ কার্যদিবসের বৈঠকে ৯৪টি বিল পাস হয়েছে, ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়েছে এবং গঠিত হয়েছে সাতটি কমিটি। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে অধিবেশন শেষে সমাপনী ভাষণে এসব তথ্য তুলে ধরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পরে রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করে তিনি প্রথম অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এর আগে রাষ্ট্রপতির ১২ মার্চের ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব কণ্ঠভোটে পাস হয়।

স্পিকার জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয় ১২ মার্চ। দীর্ঘ ১৮ বছর পর জনগণের সুষ্ঠু ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার পর এই অধিবেশন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। 

সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে যে সহমর্মিতা ও সহযোগিতা এই অধিবেশনে দেখা গেছে, তা অতীতের কোনো সংসদে দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। স্পিকারের মতে, সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই এই সংসদের মূল লক্ষ্য।

সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখার তথ্য অনুযায়ী, এই অধিবেশনে মোট ২৮০ জন সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৪০ ঘণ্টার বেশি আলোচনায় অংশ নেন। আইন প্রণয়ন কার্যাবলীর পাশাপাশি পাঁচটি স্থায়ী কমিটি ও দুটি বিশেষ কমিটিসহ মোট সাতটি কমিটি গঠিত হয়েছে। স্পিকার তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন, এই সংসদে মোট ২২০ জন সদস্য প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। নতুন সদস্যদের গঠনমূলক আলোচনা ও সহনশীল আচরণ সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বের পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য মোট ৯৩টি প্রশ্নের নোটিশ পাওয়া গিয়েছিল, যার মধ্যে ৩৫টির উত্তর তিনি সংসদে দিয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য ২ হাজার ৫০৯টি প্রশ্নের নোটিশের মধ্যে ১ হাজার ৭৭৮টি প্রশ্নের উত্তর সংসদে দেওয়া হয়েছে। কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে মোট ১ হাজার ১৯৮টি নোটিশের মধ্যে ৪২টি গৃহীত হয় এবং ৩৮টির ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সমাপনী ভাষণে স্পিকার ‍‍`সবার আগে বাংলাদেশ‍‍` নীতিতে এগোনের আহ্বান জানান। তিনি বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির মধ্যে প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্পিকার বলেন, জুলাই চেতনায় কাজ করে দেশ গড়ার অঙ্গীকার নিতে হবে। এ ছাড়া বিগত আমলের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন সুসংহত করা রাষ্ট্রের অঙ্গীকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।