মে ২, ২০২৬, ১০:১৭ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার সমাপ্ত হয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনটি বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। ২৫ দিনের এই দীর্ঘ অধিবেশনে আইন প্রণয়ন ও সংসদীয় কার্যক্রমে বেশ কিছু নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের অধিবেশনে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ৯১টি বিল পাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং শেষ দিনে আরও দুটিসহ মোট ৯৪টি বিল অনুমোদনের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের সমাপ্তি ঘটে। অধিবেশন চলাকালীন সংসদ সদস্যদের প্রশ্নোত্তর পর্বেও ব্যাপক সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারপ্রধান ও অন্যান্য মন্ত্রীদের জবাবদিহিতা ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মোট ৯৩টি প্রশ্ন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে তিনি ৩৫টি প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের কাছে জমা পড়া ২ হাজার ৫০৯টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৭৭৮টির উত্তর দেওয়া হয়েছে।
অধিবেশনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে আটটি সুনির্দিষ্ট বিষয়। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা ও বিরোধিতা এবং ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে বিতর্ক ছিল প্রধান। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রীদের জবাবদিহি করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিরোধী দলের সক্রিয়তা ও ওয়াকআউটের মতো ঘটনাগুলোও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বেশ কিছু মন্তব্য অধিবেশনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছিল। একই সঙ্গে সংসদের ভেতরে কয়েকজন সদস্যের বিশেষ ভূমিকা বা ‘আলোচিত চরিত্র’ হিসেবে আবির্ভূত হওয়া এবং রেকর্ডসংখ্যক বিল পাস ও অধ্যাদেশ উত্থাপন এই অধিবেশনের অন্যতম আলোচিত দিক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অধিবেশনের বিতর্ক ও কার্যক্রম আগামী দিনের রাজনীতির নানা ইঙ্গিত বহন করছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন