মে ৮, ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম
বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত কোনো অপরাধকেই সরকার তামাদি হতে দেবে না বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, যা মানবতাবিরোধী এবং ন্যায্যতার পরিপন্থী, এমন কোনো অপরাধকে বর্তমান সরকার রেহাই দেবে না।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘শাপলার শহীদ গাথা-৫ মের গণহত্যা স্মরণ ও মূল্যায়ন’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শাপলা স্মৃতি সংসদ।
তথ্যমন্ত্রী জানান, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান সরকার সংসদের প্রথম অধিবেশনেই শাপলা চত্বরের শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে শোক ও সম্মান জানিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থান এবং শাপলা চত্বরের শহীদদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জাতির কাছে এই বার্তাই দেওয়া হচ্ছে যে, দেশে কোনো অপরাধ আর বিচারহীন থাকবে না।
তবে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।২০১৩ সালের ৫ মে’র স্মৃতিচারণ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সেই সময়ের গণহত্যার বিভীষিকা আজও আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তৎকালীন প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সব বাধা উপেক্ষা করে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে উপস্থিত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর বিএনপিই প্রথম এটিকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করে দুই দিনের হরতাল ডেকেছিল।
তথ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার পর তৎকালীন সরকার সত্য ধামাচাপা দিতে নানা নাটক ও মিথ্যা কাহিনী প্রচার করেছিল। মামলাগুলোতে আসামিদের ৯০ শতাংশই ছিলেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী। তিনি বলেন, ৫২, ৬৯ বা শাপলা চত্বরের মতো প্রতিটি ঘটনার সম্মিলিত ফলাফলই হচ্ছে আজকের বাংলাদেশ। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সমৃদ্ধির স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাপলা স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি শাপলা চত্বরের শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এটি বর্তমান সরকারের নৈতিক দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ৫ মে’র আন্দোলন ছিল ঐতিহাসিক সংগ্রামের প্রতীক। তিনি সেদিনের জেলবন্দি জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ওই সমাবেশ কোনো বিশেষ দলের ছিল না, বরং দেশপ্রেমিক সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল সেখানে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, আলেম-ওলামারা দেশের প্রতিটি সংকটে জেগে উঠেছেন। শহীদদের যথাযথ সম্মান না দিলে ভবিষ্যতে সংকটে কেউ জীবন দিতে এগিয়ে আসবে না। এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ তৎকালীন দমন-পীড়নের ঘটনা তদন্তে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানীসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও রাজনৈতিক নেতারা বক্তব্য রাখেন। শেষে শাপলা স্মৃতি সংসদ আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন