রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

এক বছরের মধ্যে সব স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্নের লক্ষ্য ইসির

জাতীয় ডেস্ক

মে ১৪, ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম

এক বছরের মধ্যে সব স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্নের লক্ষ্য ইসির

স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ইসির

ধাপে ধাপে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, এখন আমাদের টপ প্রায়োরিটি হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আমরা এই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। 

এখনো প্রস্তুতি পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে আমাদের লক্ষ্য এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সব নির্বাচন সম্পন্ন করা।নির্বাচন আয়োজনের আগে প্রয়োজনীয় আইন, বিধি ও নীতিমালা সংশোধন, বাজেট বরাদ্দ, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং মৌসুমি বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। 

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালা পর্যালোচনার কাজ চলছে। নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য করতে কিছু আইনি সংস্কার প্রয়োজন। এই আইন ও বিধিমালা সংশোধনে কমবেশি তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে।

এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ৫ মে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তিনি বলেছিলেন, অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে সাধারণত ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগে।ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনসহ সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। 

এই নির্বাচনগুলো কবে শুরু হতে পারে এবং কোন ধাপে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আমরা এখন সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সার্বিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছি। সেটি চূড়ান্ত হওয়ার পর বলা সম্ভব হবে কোন নির্বাচন কবে এবং কোন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।জুন মাসের জাতীয় বাজেট, পরবর্তী বর্ষা মৌসুম এবং মাঠ প্রশাসনের প্রস্তুতির বিষয়গুলোও নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হিসেবে রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনও জাতীয় নির্বাচনের মতো গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কমিশনার। 

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন যে স্ট্যান্ডার্ডে হয়েছে, সেই স্ট্যান্ডার্ডের নিচে নামার কোনো সুযোগ নেই। জনগণের আস্থা বজায় রাখাই কমিশনের লক্ষ্য।আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আরও জানান, এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না এবং রাজনৈতিক পরিচয়ও থাকবে না। তিনি মনে করেন, দলীয় সরকার থাকলেও নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে, সেটি ধরে রাখতে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। রাজনৈতিক দল ও সরকার—সব পক্ষই একটি ভালো নির্বাচন প্রত্যাশা করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।