রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ফ্যামিলি কার্ডের খসড়া নীতিমালা প্রকাশ, বাদ পড়বেন যারা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১৪, ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম

ফ্যামিলি কার্ডের খসড়া নীতিমালা প্রকাশ, বাদ পড়বেন যারা

দেশের প্রান্তিক, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত ডিজিটাল নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসতে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক প্রণীত এই বিশেষ নীতিমালার মূল দর্শন হলো ব্যক্তি নয়, বরং পরিবারই হবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের মূল একক। 

সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এর বৈষম্যহীন ও মানবিক সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বড় অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মূলত এই যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।গত শুক্রবার ১২ জুন ২০২৬ তারিখে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে এই খসড়াটি সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করে জনমত ও পরামর্শ আহ্বান করা হয়েছে।নীতিমালার খসড়া অনুযায়ী, পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর সরাসরি অংশীদারিত্ব ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই ফ্যামিলি কার্ডটি সংশ্লিষ্ট পরিবারের মাতা অথবা উপযুক্ত জ্যেষ্ঠ নারী সদস্যের নামে ইস্যু করা হবে। 

প্রতিটি লক্ষ্যভুক্ত পরিবারের জন্য একটি স্থায়ী ও অনন্য পরিচিতি নম্বর বা ওয়ান-আইডি প্রদান করা হবে, যা ফ্যামিলি ট্রি রিলেশনাল ডেটা মডেলের মাধ্যমে পরিবারের অন্য সব জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর ফলে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নিয়মবহির্ভূতভাবে সমান্তরাল একাধিক সরকারি সুবিধা বা দ্বৈত সুবিধা গ্রহণ সম্পূর্ণ রোধ করা সম্ভব হবে। প্রকৃত অভাবী পরিবার সঠিকভাবে শনাক্তকরণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক প্রক্সি মিন্স টেস্ট স্কোরিং পদ্ধতি ব্যবহার করে জনগোষ্ঠীকে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক স্তরে বিন্যাস করে অতি দরিদ্র ও দরিদ্রদের আবশ্যিকভাবে এর অন্তর্ভুক্ত করা হবে। 

দুর্গম হাওড়, উপকূলীয় অঞ্চল ও পার্বত্য এলাকার জন্য এই নীতিমালায় বিশেষ  ওয়েটেজ বা অতিরিক্ত অগ্রাধিকার পয়েন্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং ডেটাবেজে জালিয়াতি প্রতিরোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।প্রস্তাবিত বহুমুখী ফ্যামিলি কার্ডটি হবে একটি আধুনিক ডুয়াল ইন্টারফেস অর্থাৎ এনএফসি ও চিপ-ভিত্তিক স্মার্ট কার্ড। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত টাকা পে অ্যাপ্লিকেশন থাকবে, যার মাধ্যমে উপকারভোগীরা যেকোনো এটিএম বুথ থেকে সরাসরি টাকা তুলতে পারবেন। এছাড়া ই-আইডি অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে কার্ডধারীর ছবি ও পরিবারের তথ্যসহ মোট ২৭টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সংরক্ষিত থাকবে, যা অফলাইনেও মাঠপর্যায়ে যাচাই করা যাবে। 

এই কর্মসূচির আওতায় কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস যেমন বিকাশ, নগদ বা রকেট অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রেরণের জন্য আইবাস প্লাস প্লাস পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।তবে কর্মসূচিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি কঠোর নেতিবাচক তালিকা তৈরি করা হয়েছে যেখানে পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরিজীবী, নিয়মিত পেনশনভোগী বা পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রের মালিক হলে ওই পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের কোনো সুবিধা পাবে না। এছাড়া চার চাকার মোটরযানের অধিকারী, নিয়মিত আয়কর দাতা কিংবা বসতভিটাসহ আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলেও তারা এই কার্ডের সুবিধার বাইরে থাকবেন। 

বস্তুনিষ্ঠ তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে দেশব্যাপী কাগজবিহীন বিশেষ ডিজিটাল পরিবার জরিপ পরিচালনা করা হবে যেখানে গণনাকারীরা সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে সরেজমিন গৃহ পরিদর্শনের সময় বসতবাড়ির জিপিএস জিও-ট্যাগিং এবং স্থিরচিত্র গ্রহণ করবেন। এই নীতিমালা বাস্তবায়নে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি প্রধান নীতিনির্ধারণী হিসেবে কাজ করবে এবং প্রতিবছর জানুয়ারি ও জুলাই মাসে মৃত বা ভুয়া উপকারভোগী বাদ দিতে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে লাইভ ভেরিফিকেশন করা হবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে।