রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জাতীয় সংসদে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

জুন ১৭, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

জাতীয় সংসদে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীতে পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আরেকটি নতুন ব্যারেজ নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনাটির কারিগরি ও আর্থিক সম্ভাব্যতা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারের উচ্চস্তরে পরীক্ষা-নিঋক্ষা চলছে বলে সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন। বুধবার জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক সুনির্দিষ্ট লিখিত প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা এই তথ্য জানান। 

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বেলা তিনটায় সংসদের বিশেষ অধিবেশন শুরু হলে দিনের নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপিত হয়। তিস্তা নদীকেন্দ্রিক এই সমন্বিত টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক সমীক্ষা কার্যক্রম ইতিমধ্যে সফলভাবে শেষ হয়েছে।এই সমীক্ষা প্রতিবেদনে তিস্তা মহাপরিকল্পনার অধীনে নদীর ১১০ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিংয়ের কথা বলা হয়েছে।

এর পাশাপাশি ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, বাঁধের ওপর আধুনিক সড়ক নির্মাণ, ৬৭টি স্পার মেরামত এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই অধিবেশনে দেশের স্বাস্থ্য খাতে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যে হামের বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে দেশের প্রতিটি এলাকায় ইপিআই কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে। 

টিকার সরবরাহ বা ব্যবস্থাপনায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানের একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়াতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে বিভিন্ন আধুনিক সংস্কারের মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই অনুপাত ১৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। 

দেশের যোগাযোগ খাতের আমূল পরিবর্তন আনতে জাতীয় মহাসড়কগুলোতে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড তৈরি এবং সড়কের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক ট্রেন ও রেলওয়ে ট্র্যাকশন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক ও শ্রম কূটনীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ মানবসম্পদ প্রেরণ ও নতুন নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।বিভাগীয় শহরগুলোতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ ভূ-উপরিস্থ পানির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য বড় বড় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও বিকল্প জলাধার তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। 

নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন যে বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকদের ৬ হাজার ৩৫৯টি পদ শূন্য রয়েছে যা দ্রুত পূরণের প্রক্রিয়া চলছে। সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের পবিত্র হজ পালনের ব্যয় আরও কমিয়ে আনতে সৌদি আরব সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় ২০২৬ সালে হজের খরচ কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে এবং ২০২৭ সালের প্যাকেজ মূল্য যেন সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে থাকে তার জন্য এখন থেকেই সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে।