রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মামলার কারণে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ আটকে রয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১৭, ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

মামলার কারণে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ আটকে রয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

বিভিন্ন আইনি মামলার জটিলতার কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। বুধবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি বলেন যে নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিক্ষক নিয়োগ-সংক্রান্ত মামলাগুলোর জট নিরসনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। 

তবে এখন পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলাগুলো কার্যতালিকায় না আসায় কাঙ্ক্ষিত নিয়োগ প্রক্রিয়া সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে আফসোস করে বলেন যে আজ চার মাস হতে চলল তিনি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন।তিনি প্রথম সপ্তাহ থেকেই দেশের আদালতপাড়ায় এই আইনি মামলার জটিলতা নিরসনের জন্য নানামুখী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক তথ্যানুযায়ী বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়টিও সুনির্দিষ্ট মামলার কারণে ঝুলে আছে। 

একই সঙ্গে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি-কাম-নাইটগার্ড নিয়োগের সামগ্রিক কার্যক্রমও আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে দেশের নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত পর্যন্ত এসব বিষয়ে হাজার হাজার মামলা বিচারাধীন অবস্থায় পড়ে আছে। শিক্ষামন্ত্রী আইনসভার অধিবেশনে আরও জানান যে বর্তমানে সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের আরও ৩৩ হাজার গুরুত্বপূর্ণ পদ সম্পূর্ণ শূন্য রয়েছে।

কিন্তু পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতা ও বছরের পর বছর ধরে চলমান মামলার কারণে অনেক যোগ্য শিক্ষক জ্যেষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পাচ্ছেন না। সারা বাংলাদেশে এখনও যারা আইনি জটিলতায় প্রধান শিক্ষক হতে পারেননি তাঁদের অনেকেই কোনো পদোন্নতি ছাড়াই স্বাভাবিক অবসরে চলে যাচ্ছেন। মামলার এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে তাঁরা নিজেদের কর্মজীবনের শেষ সময়ে এসেও প্রধান শিক্ষক পদের ন্যায্য পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন যা অত্যন্ত দুঃখজনক।