রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দেশব্যাপী দুই কোটি শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

জাতীয় ডেস্ক

জুন ২৪, ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম

দেশব্যাপী দুই কোটি শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

দীর্ঘ ১৪ মাস পর দেশব্যাপী আবার শুরু হতে যাচ্ছে ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন। আগামী ২৮ জুন সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এই বিশেষ কার্যক্রম চলবে। অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূর করার লক্ষ্যে দেশজুড়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে। এবারের কর্মসূচিতে ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী দুই কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

১২টি জেলার দুর্গম এলাকাগুলোতে ক্যাম্পেইন পরবর্তী আরও চার দিন বিশেষ অনুসন্ধান চালানো হবে।ক্যাম্পেইন সফল করতে সারা দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির এক লাখ ২০ হাজার নিয়মিত কেন্দ্রের পাশাপাশি লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডের মতো স্থানে আরও ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। ক্যাপসুল সংকটের কারণে গত বছরের মার্চ মাসের পর থেকে এই কর্মসূচি আর আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। 

দীর্ঘ বিরতির পর শুরু হতে যাওয়া এই কর্মসূচিতে ছয় মাস থেকে ১১ মাস বয়সী ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী দুই কোটি পাচ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।আগামী ২৮ জুন সকালে রাজধানীর শাহবাগের আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো সাখাওয়াত হোসেন। 

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডক্টর এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডাক্তার এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে পুরো কার্যক্রম তদারকি করবেন এবং কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভিটামিন এ শিশুদের শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকেই রক্ষা করে না, বরং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে সুরক্ষা দিয়ে deaths বা মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে এই কার্যক্রম শুরু হয়, যা তৎকালীন সময়ে জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে এর নাম দেওয়া হয় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন এবং ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

তথ্যসূত্র: বাসস