বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত

জাতীয় ডেস্ক

জুন ২৭, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গত ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়া এবং চীন সফরে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই এই সফরের বিষয়ে ধন্যবাদ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে স্পিকার ধন্যবাদ প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দিলে সরকারি ও বিরোধী দলের সকল সদস্য তাতে পূর্ণ সমর্থন জানান।

সফরকালে গণচীনের সঙ্গে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।ধন্যবাদ প্রস্তাব উপস্থাপন করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার গঠনের মাত্র চার মাসের মাথায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সফলতার সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নিজের সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করা সরকারপ্রধান জনগণের কল্যাণে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

অতীতে বিদেশ সফর শেষে ফেরার পর রাস্তাঘাট বন্ধ করে যেভাবে বিশাল গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হতো, প্রধানমন্ত্রী নিজের উদ্যোগে তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হবে এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের পথ সুগম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রস্তাবটি সমর্থন করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই দ্বিপাক্ষিক ভ্রমণের মূল ভিত্তি ছিল আমাদের নিজস্ব স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই অনুযায়ী পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক স্বার্থ, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকারচর্চা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশনের ভিত্তিতেই এই সফর পরিচালনা করা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে বর্তমান প্রশাসন কোনো দেশের সাথেই কোনো ধরনের আপস করবে না বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

সরকারি দলের এই ধন্যবাদ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনা করা অত্যন্ত ইতিবাচক এবং জাতীয় স্বার্থকে সবসময় সবার আগে প্রাধান্য দিতে হবে। সংসদকে সকল রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্ধ বিরোধিতার পুরনো সংস্কৃতি বাদ দিয়ে সরকারি ও বিরোধী দল উভয়কেই দেশ গঠনে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সাথে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং বর্তমান সরকারের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।