রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শুরু ও শেখ হাসিনা সরকারের পতন

জাতীয় ডেস্ক

জুলাই ১, ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শুরু ও শেখ হাসিনা সরকারের পতন

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছত্রিশ দিনের ঐতিহাসিক আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ১ জুলাই থেকেই। উচ্চ আদালতের একটি রায়কে কেন্দ্র করে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে সেদিন সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া এই ছাত্র আন্দোলন দ্রুতই সারা দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সাধারণ সড়ক ও মহাসড়কে নেমে আসেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।

পতন হয় দীর্ঘ এক কর্তৃত্ববাদী শাসনের।শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলন দমাতে তৎকালীন সরকার, পুলিশ প্রশাসন এবং দলীয় অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক দমনপীড়ন চালানো হয়। শাহবাগে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে থাকলে আন্দোলন আরও তীব্রতর হয়ে ওঠে। সরকারের নির্যাতন যত বেড়েছে, আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও ততটাই পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘদিনের দুঃশাসনে বিক্ষুব্ধ এ দেশের আপামর জনসাধারণ শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জোগায়।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। একই দিন চট্টগ্রামে শহীদ হন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম, যার ফলে সারা দেশে আন্দোলন দাবানলের মতো জ্বলে ওঠে। জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, পরবর্তী প্রায় তিন সপ্তাহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে শিশুসহ প্রায় এক হাজার চারশত মানুষকে হত্যা করা হয়।

অবশেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পতন ঘটে শেখ হাসিনা সরকারের। সেদিন দুপুরে শেখ হাসিনা বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে চলে যান এবং সাধারণ মানুষ গণভবন ও সংসদ ভবন দখলে নেয়। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তে উঠে আসে যে, নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের হত্যা করতে মারণাস্ত্র ব্যবহারের সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে নগ্নভাবে ব্যবহারের তথ্যপ্রমাণও পেয়েছে ট্রাইব্যুনাল।