জুলাই ৪, ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
কাঁঠালকে কেউ দেখতে সুন্দর ফল বলবেন কিনা সন্দেহ আছে। অনেকে হয়তো একে বেঢপ, কাঁটাময় বা অদ্ভুত বলে ডাকেন। অথচ এই অদ্ভুত চেহারার আড়ালেই লুকিয়ে আছে বিশেষ স্বাদ। কাঁঠাল যে কতটা সুস্বাদু আর স্মৃতিতে গেঁথে থাকার মতো একটি ফল, তা না খেলে বোঝা যায় না।আজ ৪ জুলাই, কাঁঠাল দিবস।
রূপ, রস, গন্ধ আর স্পর্শ—সব মিলিয়ে কাঁঠালের আবেদন একেবারেই নিজস্ব। যারা ভালোবাসেন, তারা কাঁঠালের জন্য দিওয়ানা; আর যারা ভালোবাসেন না, তাদের কাছে এটি অসহ্য। মাঝামাঝি কোনো অবস্থান যেন নেই। আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল শুধু একটি মৌসুমি ফল নয়, এটি খাদ্যাভ্যাস, লোকসংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কাঁচা কাঁঠাল দিয়ে তৈরি তরকারিকে অনেকেই ‘গরিবের মাংস’ বলেন, কারণ এর আঁশযুক্ত গঠন অনেকটা মাংসের মতো।
পাকা কাঁঠাল মিষ্টি স্বাদ ও অনন্য সুবাসের জন্য পরিচিত। দেশীয় ফলগুলোর মধ্যে কাঁঠালে প্রোটিনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। পাশাপাশি এতে আছে ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। কাঁঠালের ব্যবহার এখন আর শুধু ফল বা তরকারিতে সীমাবদ্ধ নেই। গত মেলায় কাঁঠাল দিয়ে তৈরি বিরিয়ানি, বার্গার, কাবাব, কাটলেট, চিপস, ললিপপ, কেক, হালুয়া ও নকশি পিঠাসহ নানা পদের খাবার প্রদর্শন করা হয়েছে।
উৎপাদনের দিক থেকেও কাঁঠাল বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাঁঠাল উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ, প্রথম ভারত। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১৮ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়েছে। কৃষিবিদ মৃত্যুঞ্জয় রায়ের মতে, সহজলভ্যতা ও জনপ্রিয়তার কারণেই এটি জাতীয় ফল। কাঁঠালের আদিনিবাস মূলত ভারত ও বাংলাদেশের এই অঞ্চল।
কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার তুলে ধরা এবং এর সম্ভাবনা জনপ্রিয় করার লক্ষ্যেই পালিত হয় এই দিবসটি। তাই সুযোগ থাকলে পাকা কাঁঠালের কোয়া হাতে তুলে নিন, অথবা রান্নাঘরে তৈরি করুন নতুন কোনো পদ। হয়তো নতুন করে আবিষ্কার করবেন বহুদিনের চেনা এই ফলকে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন