রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

গণহত্যায় অভিযুক্ত ৮০ পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত

জাতীয় ডেস্ক

জুলাই ১০, ২০২৬, ১১:২০ এএম

গণহত্যায় অভিযুক্ত ৮০ পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত

গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে জননিরাপত্তার পরিবর্তে রাজনৈতিক দমনে লিপ্ত থাকা পুলিশ বাহিনীর একটি বিতর্কিত অংশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান এবং ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যার পেছনে দায়ী অভিযোগে ডিআইজি থেকে শুরু করে সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার মোট ৮০ জন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুব দ্রুত এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে তিন কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৃহস্পতিবারের আদেশে ৩৩তম বিসিএসের মিশু বিশ্বাস, জুয়েল চাকমা এবং ৩৬তম বিসিএসের মাহমুদুল হাসানকে চাকরিচ্যুত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবের সময় নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানো এবং অতীতে গুম ও নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

অভিযুক্ত অধিকাংশ কর্মকর্তাই বর্তমানে পলাতক এবং তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।তালিকায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে ডিএমপির সাবেক বিতর্কিত যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদের নামও রয়েছে। 

বিরোধী মত দমনে এবং টর্চার সেলে নির্যাতনের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবের সময় যাত্রাবাড়ী, পল্টন ও উত্তরা এলাকায় নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। তালিকাটিতে আরও রয়েছেন প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, সৈয়দ নুরুল ইসলাম এবং এসএম মেহেদী হাসানের মতো কর্মকর্তারা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশ ক্যাডারের ৮০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যারা বর্তমানে অনুপস্থিত ও পলাতক, তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি কর্মকর্তাদের বরখাস্তের তালিকাও মন্ত্রণালয়ের পাইপলাইনে রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।