রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পাহাড়ি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা

জাতীয় ডেস্ক

জুলাই ৩১, ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম

পাহাড়ি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা

Ai - ছবি

রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী পাঁচ বছর মেয়াদি তৃতীয় ধাপে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ভৌগোলিক প্রতিকূলতার কারণে গ্রিড লাইন সম্প্রসারণ অসম্ভব হওয়ায় এই নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পকে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্ভব নয়।পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই তিন জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সাম্প্রতিক জেলা প্রশাসক সম্মেলনে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক পার্বত্য অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও শতভাগ বিদ্যুতায়ন প্রকল্প গ্রহণের জোরালো প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বাস্তবসম্মত অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে চিঠি পাঠানো হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, প্রকল্পটি বর্তমানে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অননুমোদিত বা বরাদ্দহীন প্রাথমিক তালিকা বা সবুজ পাতা প্রকল্পে স্থান পেয়েছে। যদি প্রকল্পটি ডিপিপিতে স্থান পায়, তবে ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। ইতোমধ্যে পার্বত্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ এবং পার্বত্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে বর্তমান সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার রয়েছে এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ প্রসারে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে পার্বত্য অঞ্চলে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২১৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে অফ-গ্রিড সোলার ফটোভোল্টাইক সিস্টেম স্থাপন করা হয়।

পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও বিস্তৃত বনভূমির কারণে জাতীয় গ্রিড সম্প্রসারণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় অফ-গ্রিড সোলার সিস্টেমই একমাত্র টেকসই সমাধান। নতুন এই তৃতীয় ধাপের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ি অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।