শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬,

বাঘাবাড়ি ঘি ও বম্বে সুইটসের মসলাসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

জাতীয় ডেস্ক

আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম

বাঘাবাড়ি ঘি ও বম্বে সুইটসের মসলাসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও মসলার গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করে থাকে সংশ্লিষ্ট মান নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে পরিচালিত এমন বেশ কিছু ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাজারে প্রচলিত শীর্ষস্থানীয় কিছু ব্র্যান্ডের পণ্যের মধ্যে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে বড় ধরনের ব্যর্থতা ধরা পড়েছে। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে মান পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া এসব ক্ষতিকর ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্যগুলো অবিলম্বে সাধারণ ক্রেতাদের নাগাল থেকে অপসারণের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান অনুযায়ী নির্ধারিত গুণগত মানদণ্ড পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের বিভিন্ন মসলা এবং বাঘাবাড়ি ঘি’সহ মোট দশটি পণ্য অবিলম্বে বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।বুধবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়মিত সার্ভিল্যান্স ও বাজার তদারকির অংশ হিসেবে সংগৃহীত বিভিন্ন কোম্পানির পণ্যের নমুনা আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। 

পরীক্ষায় বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারি পাউডার, হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালা ভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা ও মাছের মসলাসহ বিভিন্ন ব্যাচে অতিরিক্ত মাত্রায় এভ ও লবণের উপস্থিতি পাওয়া যায়। পাশাপাশি, বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি, অরুন বাঘাবাড়ী, নিউ রাঁধুনী, সিটি এবং এলডার্স ব্র্যান্ডের ঘি ও বাটার অয়েলে নির্দিষ্ট মিল্ক ফ্যাট না পেয়ে পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে, যা নির্ধারিত রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স ও আয়োডিন ভ্যালুর সীমার বাইরে অবস্থান করছে।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক জানিয়েছেন যে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য জাতীয় মান বজায় রাখা বাধ্যতামূলক এবং এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ল্যাবরেটরির এই ফলাফলের ভিত্তিতে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে এবং ভোক্তাদের এসব পণ্য ক্রয় করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মানহীন বা ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে এই কঠোর নজরদারি ও সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মান নিয়ন্ত্রণকারী এই সংস্থাটি।