শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

চলতি সপ্তাহে একনেকে অনুমোদন পেতে পারে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম

চলতি সপ্তাহে একনেকে অনুমোদন পেতে পারে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প

বাগেরহাটের রামপালে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব চলতি সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উঠছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) উদ্যোগে তৈরি এই প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৫০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। পরিকল্পনা কমিশনের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর এই কেন্দ্রটি নির্মিত হলে তা জাতীয় গ্রিডে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ যুক্ত করার পাশাপাশি দেশের জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির চাপ কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হবে ২০২৮ সাল থেকে। রামপালে চলমান এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশেই বরাদ্দকৃত ৯১৮ দশমিক ৫ একর জমিতে এই সৌর ফোটোভোলটাইক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পূর্বে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা এই অব্যবহৃত জমিতে মাটি ভরাট এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ আগেই সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে সম্পূর্ণ নতুন স্থানে প্রকল্প গড়ে তোলার তুলনায় অবকাঠামোগত ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎ খাতের নিজস্ব তহবিল বা পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে এই প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যান্য কেন্দ্রের তুলনায় এই প্রকল্পের বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ অনেক কম হবে। বিপিডিবির তথ্যমতে, প্রস্তাবিত রামপাল কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় টাকা ১৮ পয়সা। এটি ফেনীর সোনাগাজীতে প্রস্তাবিত ২২০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রের সম্ভাব্য আট টাকা ৮৭ পয়সা ট্যারিফের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ কম। বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের পর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভাও ইতিবাচকভাবে শেষ হয়েছে। সংস্থাটির সদস্য মো. জহুরুল ইসলাম জানান, অব্যবহৃত জমি সর্বোচ্চ দক্ষতায় কাজে লাগিয়ে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনই এর মূল উদ্দেশ্য।

ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানির সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারের ফলে প্রকল্পের বাস্তবায়ন দ্রুততর হবে। উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের সাবস্টেশনের সঙ্গে যুক্ত নতুন ২৩০ কিলোভোল্ট সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির পোড়ানো কমিয়ে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের ওপর পরিবেশগত চাপ হ্রাস করতে এই উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্যারিস চুক্তির শর্ত পূরণ, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং সরকারের সমন্বিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৩ বাস্তবায়নের সঙ্গেও এই পরিকল্পনা সংগতিপূর্ণ।

জ্বালানি বিশ্লেষক সংস্থা আইইইএফএ-র প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম মনে করেন, কয়লাভিত্তিক প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলা বাংলাদেশের নীতিগত পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রতিফলন। এটি আমদানিনির্ভর তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করবে। অন্যদিকে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্রের (২০২৬-২০৩০) আওতায় দেশজুড়ে ভবনগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন ও স্থানীয় উদ্যোক্তা নেটওয়ার্ক তৈরির কাজও সমানতালে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।