শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

বেকারি পণ্যের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ ভোক্তা

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ১২:২২ পিএম

বেকারি পণ্যের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ ভোক্তা

বেকারি পণ্যের দাম কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণ দেখিয়ে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে উৎপাদকদের সংগঠন। গত ৯ সেপ্টেম্বর ‍‍`ব্রেড বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি‍‍` এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। কারখানা দুই দিন বন্ধ রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার পর শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাউরুটি, বিস্কুট ও চানাচুরসহ শুকনা খাদ্যপণ্য বর্ধিত মূল্যে বিক্রি শুরু হয়েছে।

দোকানে আসা সাধারণ ক্রেতাদের অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, পূর্বে ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়া দুই পাউন্ড ওজনের পাউরুটির দাম বেড়ে এখন ১২০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। একইভাবে ৫০ টাকার এক পাউন্ড পাউরুটি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। পাউরুটির পাশাপাশি চায়ের দোকানে বিক্রি হওয়া সাধারণ ১০ টাকার বেকারি পণ্যের দাম ১৫ টাকা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিনি, ময়দা ও ভোজ্যতেলের মতো অপরিহার্য উপাদানের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ সামাল দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্রেড বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন জানান, রুটি, বিস্কুট, কেক ও বাটার বনসহ প্রতিটি পণ্যের দর পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সমিতির সদস্যরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গ্যাস ও বিদ্যুতের নিয়মিত সংকটের কারণে এখন দিনের একটি বড় সময় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়, যার ফলে বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা তীব্র ব্যবসায়িক ঝুঁকিতে পড়েছেন। তিনি আরও জানান, কিছু পণ্যের মূল্য সরাসরি বাড়ানো হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ওজন কমিয়ে সমন্বয় করা হয়েছে।

সাধারণ ক্রেতারা এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ভোক্তাদের বক্তব্য, নিত্যপণ্যের অব্যাহত ঊর্ধ্বগতির মধ্যে আয় অপরিবর্তিত থাকলেও নিয়মিত খাবারের তালিকায় থাকা এসব কম মূল্যের পণ্যের দাম বাড়ায় পারিবারিক ব্যয়ে অতিরিক্ত টান পড়ছে। খুচরা বিক্রেতা ও পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানগুলোতেও বেকারি পণ্যের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। বহু বিক্রেতা জানিয়েছেন, আগে যেসব পণ্য দুপুরের আগেই শেষ হয়ে যেত, সেগুলোর একটি অংশ দিন শেষেও অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে।

তবে সমিতির এই বর্ধিত মূল্যের সিদ্ধান্ত সব কারখানায় বাস্তবায়িত হচ্ছে না। রাজধানীর মানিকনগরের ভাণ্ডারি বেকারির স্বত্বাধিকারী মো. আকাইদ হোসেন জানান, উন্নত মানের কারণে তারা নিজস্ব খরচের ভিত্তিতে আগেই দর নির্ধারণ করেছিলেন, তাই নতুন করে দাম বাড়াননি। একইভাবে মুগদা বাজারের একজন বেকারি ব্যবসায়ী জানান, তাদের কারখানায় পাউরুটি ও কেকের দাম গত জুন মাসেই সমন্বয় করা হয়েছিল, ফলে নতুন ঘোষণায় তারা পণ্যমূল্য আর বৃদ্ধি করছেন না।

এলাকাভেদে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যে বেকারি পণ্য বিক্রি হওয়ায় বাজারে এক ধরনের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কোনো এলাকায় সমিতির নতুন দাম কার্যকর হলেও অন্য এলাকায় পণ্য পাওয়া যাচ্ছে আগের দামেই। ফলে চলমান বাজার পরিস্থিতিতে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য ব্যয় মেটাতে নতুন করে আর্থিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।