সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ১১:০৬ এএম
হামের টিকা কার্যক্রমে বড় সাফল্য এসেছে দেশে। গত পাঁচ মাসে দেশজুড়ে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ৭২০ জন শিশুকে হাম ও রুবেলার প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে, যা প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অর্জনের এই হার দাঁড়িয়েছে ১০৯ দশমিক ৮ শতাংশে। চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষের দিকে হঠাৎ হামের সংক্রমণ বেড়ে গেলে দ্রুত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। গত ৫ এপ্রিল প্রথম দফায় দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি টিকাদান শুরু করে সরকার।
পরবর্তীতে ১২ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, বরিশাল ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে এই কার্যক্রম নামানো হয়। এরপর ২০ এপ্রিল থেকে তৃতীয় ধাপে সারাদেশে একযোগে মাঠপর্যায়ে টিকাদান সম্প্রসারিত করা হয়, যা বর্তমানেও অব্যাহত আছে। প্রথমে মোট ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা ছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৯ লাখ ১৯ হাজার ৯১৩ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৮ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪ জন শিশু টিকা পেয়েছে। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহীতে ২২ লাখ ১৩ হাজার ১৯৭ জন, রংপুরে ২০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৮৮ জন, খুলনায় ১৬ লাখ ৯৫ হাজার ৭৭৯ জন, ময়মনসিংহে ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৯১৬ জন, সিলেটে ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৫ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১১ লাখ ১০ হাজার ৬৯৮ জন শিশুকে প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে।
সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে ঢাকা উত্তরে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮৮ জন, ঢাকা দক্ষিণে ৪ লাখ ১৮ হাজার ৯৭২ জন এবং চট্টগ্রামে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৭০ জন শিশু টিকা গ্রহণ করেছে। এছাড়া গাজীপুরে ২ লাখ ৬ হাজার ৯২৭ জন, খুলনায় ৯৬ হাজার ৭৯২ জন, নারায়ণগঞ্জে ৮৩ হাজার ৬৯৭ জন, রংপুরে ৮২ হাজার ২৫৩ জন, সিলেটে ৭২ হাজার ৩৪৯ জন, রাজশাহীতে ৬৩ হাজার ৫৯ জন, ময়মনসিংহে ৬২ হাজার ৩০৫ জন, কুমিল্লায় ৪৮ হাজার ৬৪৩ জন এবং বরিশাল সিটিতে ৪৪ হাজার ১১৯ জন শিশুকে এই সেবার আওতায় আনা হয়।
দেশের কিছু এলাকায় এখনো সংক্রমণ সক্রিয় থাকায় আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও দেশব্যাপী ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান জানিয়েছেন, শিশুদের টিকাদান একটি নিয়মিত ও চলমান স্বাস্থ্যসেবা। ২৬ সেপ্টেম্বরের উদ্যোগকে সরকারের একটি বর্ধিত ও নিবিড় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, কোনো যোগ্য শিশুই যেন এই সুরক্ষাবলয়ের বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
তথ্যসূত্র: বাসস

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন