সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়ে নিজ পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় সাধারণ পরিষদ হলে তিনি এই ভাষণ প্রদান করবেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে এটিই তার প্রথম ভাষণ। অধিবেশনের দ্বিতীয় ভাগে নির্ধারিত ১৮ জন বৈশ্বিক বক্তার তালিকায় তিনি একাদশ অবস্থানে রয়েছেন। তার এই ভাষণের জন্য সময়সীমা বরাদ্দ করা হয়েছে ১৫ মিনিট।
প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের বক্তব্য বাংলায় উপস্থাপন করবেন।
ভাষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নীতিগত অগ্রাধিকারগুলো বিশদভাবে তুলে ধরা হবে। এতে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবিক বিপর্যয় এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের মতো বিষয়গুলো প্রধান্য পাবে।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের ঝুঁকি এবং এর প্রতিকারে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক অবস্থান এই ভাষণে শক্তভাবে প্রতিফলিত হবে। অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়া, উন্নয়ন লক্ষ্য এবং বৈশ্বিক সংকট নিরসনে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করবেন সরকারপ্রধান। একই সঙ্গে দারিদ্র্য দূরীকরণ, অর্থনীতির সম্ভাবনা, জলবায়ু তহবিল নিশ্চিতকরণ এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে।
তারেক রহমানের এই ভাষণের মধ্য দিয়ে সাধারণ পরিষদে তার পরিবারের চার দশকের বেশি সময়ের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করছে। পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই ভাষণে তিনি ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার ব্যবধান, বৈশ্বিক ক্ষুধা ও দারিদ্র্য এবং টেকসই অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন তার মা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আন্তর্জাতিক নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তিনি জাতিসংঘে মোট পাঁচবার গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের সুবর্ণজয়ন্তী, ২০০২ সালে শিশুদের অধিকার বিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক বৈঠক অন্তর্ভুক্ত ছিল।বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করায় এবারের অধিবেশনটি দেশটির জন্য বাড়তি কূটনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে। সাধারণ পরিষদের মূল ভাষণের আগে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সংকট মোকাবিলা সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের একটি সভায় অংশ নিয়ে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি মাতৃ ও নবজাতক মৃত্যু প্রতিরোধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ধাত্রীবিদ্যা অন্তর্ভুক্তকরণ বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক পার্শ্ব-আলোচনায় অংশ নেবেন তিনি।
কর্মসূচির মধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভাষণ প্রদান শেষে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর থেকেই তিনি ধারাবাহিক কূটনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজিত সংবর্ধনা প্রাতরাশে অংশ নেওয়ার পর সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন তিনি। ওই দিন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট হোসেন মোহাম্মদ লতিফ এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিলস-এমে, মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ এবং মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্কের সঙ্গেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।
২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সাইড ইভেন্টে যোগ দেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং পরিবেশ সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের সংলাপে অংশ নেন। নিউইয়র্ক ত্যাগের আগে ২৫ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনে জেপি মরগানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিট প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক এবং কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল হামাদ আল সাবাহর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন