সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য বিরোধী দল নতুন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। একই সাথে তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে গত ৫ আগস্ট পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের মিল রয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের পিয়ারাপুর শহীদ মজাফরুল মনির উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নদীতীর সংরক্ষণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনা করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী দাবি করেন, সমাজের নানা অনিয়ম ও অপকর্মের সঙ্গে বিরোধী দল সংশ্লিষ্ট। তাদের রাজনৈতিক আচরণের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, গালিগালাজ করাকে তারা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য মনে করে। কিন্তু এই আচরণ গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হতে পারে না এবং দেশের সাধারণ মানুষ অতীতে তাদের গ্রহণ করেনি, ভবিষ্যতেও গ্রহণ করবে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিরোধী দল থেকেই বলা হচ্ছে যে এগারো দলের দাবি পূরণ না হলে বোমাবাজি ও ককটেল বিস্ফোরণ বন্ধ হবে না। দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দল অপতৎপরতায় জড়িত বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব রাজনৈতিক বক্তব্যের পক্ষে অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তিনি। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড লক্ষ্মীপুরের আয়োজনে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার প্রায় দশ কিলোমিটার নদীতীরের সাতাশটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে এই সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জিও-সিমেন্টের তিনটি প্যাকেজে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ষাট কোটি টাকা।
নদীভাঙন থেকে স্থানীয় মানুষের বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, রহমতখালী নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্দেশ্যে দ্রুতই তিনশত কোটি টাকার একটি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। এর আগে তিনি ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে সংরক্ষণ কাজের উদ্বোধন করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চিহ্নিত সাতাশটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কাজ শেষ হলে নদীভাঙন উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এতে স্থানীয় জনবসতি ও অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর ঝুঁকিতে থাকা স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পটি দ্রুত ও গুণগত মান বজায় রেখে বাস্তবায়ন করা হলে তাদের জানমাল সুরক্ষিত থাকবে। অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন