রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
কপ সম্মেলন প্রস্তুতি

কপ-৩১ অবস্থানপত্রে শ্রমিকের অধিকার যুক্ত করার দাবি

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

কপ-৩১ অবস্থানপত্রে শ্রমিকের অধিকার যুক্ত করার দাবি

আসন্ন বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন বা কপ-৩১-এর জন্য প্রস্তুত করা জাতীয় অবস্থানপত্রে শ্রমিকের অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, শোভন কাজ, দক্ষতা উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ, উন্নয়ন সংস্থা ও ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা। রাজধানীর বনানীর একটি সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‍‍`ওয়ার্কশপ অন ওয়ার্কার পজিশন পেপার ফর কপ-৩১‍‍` শীর্ষক বিশেষ কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা এই অবস্থান তুলে ধরেন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর জাস্ট ট্রানজিশন বাংলাদেশ যৌথভাবে এই আয়োজন পরিচালনা করে, যাতে সহযোগিতা দেয় অক্সফাম এবং বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন।

তীব্র তাপপ্রবাহ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং জীবিকার ঝুঁকির শিকার হয়ে জলবায়ু সংকটের সরাসরি ক্ষতি বহন করছেন এ দেশের মেহনতি শ্রমিকরা। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের কর্মকর্তা এলিসা বেনিস্তাঁ ফ্রেমিগাচ্চি উল্লেখ করেন, কপ-৩১ মূলত বাস্তবায়নের সম্মেলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ কারণে বাংলাদেশে শ্রমিকদের নীতিগত অঙ্গীকারগুলো মাঠপর্যায়ের কার্যকর পদক্ষেপে রূপান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে। জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান বা এনডিসির ন্যায্য রূপান্তর অধ্যায় বাস্তবায়নে তিনি নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ, শ্রমিকদের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব, কার্যকর সংলাপ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।

ন্যায্য রূপান্তর কেবল জ্বালানি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা চলবে না বলে মন্তব্য করেন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মো. মুহতাসিম বিল্লাহ। তিনি সকল অর্থনৈতিক খাতে শ্রমিকের অধিকার ও শোভন কাজের পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানান। বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও জাতীয় জোটের সদস্যসচিব এ কে এম আশরাফ উদ্দিন জানান, কপ আলোচনায় শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সরাসরি অংশগ্রহণ ইতিবাচক অগ্রগতি। দেশের প্রায় ২০টি খাতের ৬০টি নাগরিক সমাজ ও ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনকে সাথে নিয়ে জলবায়ু সম্মেলনের জন্য একটি সমন্বিত শ্রমিক দাবিনামা প্রস্তুত করার কাজ চলছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী মূল প্রবন্ধে তুলে ধরেন যে, চরম তাপমাত্রা শ্রমিক ও জাতীয় অর্থনীতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরকারের অবস্থানপত্রে শ্রমিকদের স্বার্থে বেতনসহ তাপজনিত বিশ্রাম, সামাজিক সুরক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সরকারি প্রতিনিধিদলে শ্রমিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দেন তিনি।

আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বিভিন্ন যুবগোষ্ঠী, ট্রেড ইউনিয়ন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কমিটির সাথে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত একটি শ্রমিক অবস্থানপত্র চূড়ান্ত করা হবে বলে নিশ্চিত করেন কর্মসূচির কর্মকর্তা জুবায়ের আলম। দুই দশকের বেশি সময় ধরে শ্রমঅধিকার নিয়ে কাজের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে উন্নয়ন সংস্থার প্রকল্প সমন্বয়কারী পাবলো নেরুদা জাতীয় জলবায়ু নীতিতে শ্রমিকের অগ্রাধিকার যুক্ত করার আহ্বান জানান।

একই সংস্থার কর্মকর্তা ওয়াসিউর রহমান তন্ময় জানান, তথ্যপ্রমাণ ও যুব সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে শ্রমিকদের কণ্ঠ বাস্তবায়নযোগ্য ভাষায় নীতিমালায় আনা জরুরি। জাতীয় জোটের নির্বাহী সমন্বয়কারী সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ সরকারের চূড়ান্ত অবস্থানপত্রে এসব দাবি অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।