আগস্ট ২৮, ২০২৫, ০৫:৩১ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন এবং দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন চূড়ান্ত করাসহ ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলীকে প্রাধান্য দিয়ে একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এই কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
ইসিসির কর্মপরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় হলো—অংশীজনের সংলাপ, ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নির্বাচনি আইন ও বিধি সংস্কার, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন, নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন এবং আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কার্যক্রম।
গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলী ও সময়সীমা:
-
অংশীজনের সংলাপ: দল ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে শুরু হবে এবং প্রায় দেড় মাস ধরে চলবে।
-
ভোটার তালিকা হালনাগাদ: ইতোমধ্যে দ্বিতীয় ধাপের সম্পূরক খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যা আগামী ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত করা হবে। এরপর ৩১ অক্টোবরের সম্পূরক তালিকা শেষে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
-
নির্বাচনি আইন-বিধি সংস্কার: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এবং অন্যান্য আইন-বিধি সংশোধনের প্রস্তাব ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রণয়ন করা হবে। আইন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার আশা করছে ইসি।
-
রাজনৈতিক দল নিবন্ধন: নতুন দলগুলোর প্রাথমিক নিবন্ধন মধ্য সেপ্টেম্বরে সম্পন্ন হবে এবং চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হবে সেপ্টেম্বরের মধ্যে।
-
সীমানা নির্ধারণ: নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণের চূড়ান্ত গেজেট সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে জিআইএস ম্যাপ প্রস্তুত ও প্রকাশ করা হবে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে।
প্রবাসী ও কারাবন্দিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও এই কর্মপরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত। এর জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের কাজ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে। প্রবাসে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে নভেম্বরে। এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কার্যক্রমের জন্য তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে একাধিক বৈঠক করবে ইসি।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বছর ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারও জানিয়েছেন, ভোটের প্রায় দুই মাস আগে অর্থাৎ ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করা হবে। ইসির এই কর্মপরিকল্পনা জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সকল পক্ষের মধ্যে একটি স্পষ্ট ধারণা তৈরি করবে বলে আশা করা যায়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন