সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জুলাই সনদে হাসিনাকে ‍‍`ফ্যাসিস্ট‍‍` স্বীকৃতি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২, ২০২৫, ০৯:০৫ এএম

জুলাই সনদে হাসিনাকে ‍‍`ফ্যাসিস্ট‍‍` স্বীকৃতি

ছবি - সংগৃহীত

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রণীত 'জুলাই সনদ'-এর পরিমার্জিত চূড়ান্ত ভাষ্যে একটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই সনদে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'ফ্যাসিস্ট' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কাজ করছে, তাদের সূত্রেই এই তথ্য জানা গেছে।

এই সনদে শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান নয়, বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনও স্বীকৃতি পাচ্ছে।ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ড. আলী রীয়াজ নিশ্চিত করেছেন, চূড়ান্ত জুলাই সনদ নিয়ে দলগুলো মতামত ও পরামর্শ দিয়েছে এবং সনদে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল। সবকিছু বিবেচনা করে সেগুলো সংশোধন করা হচ্ছে, যেখানে দলগুলোর মতামতের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাবে।

ফ্যাসিস্ট হিসেবে চিহ্নিতকরণ: সংশোধিত সনদে 'স্বৈরাচারী শাসক'-এর স্থলে স্পষ্ট করে 'ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা' এবং তাঁর দোসররা পরাজিত হয়ে 'অনেকেই' পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়—এই অংশটুকু যুক্ত করা হয়েছে।১/১১ এর দায়: সনদে ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টির জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হচ্ছে। নতুন ভাষ্যে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে লগি-বৈঠার তাণ্ডবে নৃশংস রাজনৈতিক

হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়েই ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারি ও ১/১১ সরকার নামে পরিচিত অস্বাভাবিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা: পঁচাত্তরে শেখ মুজিবের একদলীয় শাসন (বাকশাল) কায়েমের বিপরীতে জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকছে। এতে বলা হয়েছে, '১৯৭৮ সালে বহুদলীয় রাজনীতির পুনঃপ্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণের ফলে ১৯৭৯ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়'।

স্বাধীন পুলিশ কমিশন: ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনে দলগুলো একমত হলেও, কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া আগে উল্লেখ ছিল না। সংশোধিত ভাষ্যে সেই প্রক্রিয়া বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। এই ৯ সদস্যের কমিশনের চেয়ারম্যান হবেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, এবং কমিশনের লক্ষ্য হলো পুলিশ যেন আইনানুগভাবে ও প্রভাবমুক্তভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।

প্রস্তাব সংখ্যা: গত ১১ সেপ্টেম্বর দলগুলোকে পাঠানো সনদে ৮৪টি প্রস্তাব থাকলেও, সংশোধিত সনদের সবশেষ ভাষ্যে চারটি কমিয়ে ৮০টি উল্লেখ করা হচ্ছে। মূলত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশন নিয়োগের প্রস্তাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় চারটি প্রস্তাব বাদ দেওয়া হয়েছে।

জুলাই সনদের অঙ্গীকারনামায় নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা যুক্ত করা হয়েছে। ৮ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদের যেসব ক্ষেত্রে 'নোট অব ডিসেন্ট' দেওয়া হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট প্রাপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল সে মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে পারবে।

অর্থাৎ, যেসব দল সনদের কোনো বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছে, তারা ক্ষমতায় গেলে ঐকমত্য কমিশনে দেওয়া তাদের প্রস্তাব অনুসারে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে—যা ভবিষ্যতে ঐকমত্যকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি দলগুলোর নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথও খোলা রাখছে।